সার্বিয়ায় থেকে বাংলাদেশি কর্মীর মরদেহ দেশে আসছে আগামীকাল

0
33

নিউজ ডেস্ক:
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সার্বিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে রাস্তায় লরিতে মারা যাওয়া বাংলাদেশি কর্মী বাদল খন্দকারের মরদেহ শনিবার (১৫ এপ্রিল) সরকারি সহায়তায় দেশে আনা হবে বলে জানা যায়। তার মরদেহ নিজ বাড়ি মানিকগঞ্জে দাফন করা হবে।

শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) সকালে বাদল খন্দকারের ভাই সাদ্দামের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কাজের আশায় জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে সার্বিয়ায় আসা মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার জারমিতা ইউনিয়নের মধুরচর গ্রামের বাসিন্দা বাদল খন্দকারের মৃত্যুর পর ইতালির রাজধানীর রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা তার বিষয়ে খোঁজ নিতে শুরু করেন। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাদলের পরিবারের দেশে লাশ আনানোর সামর্থ্য না থাকায় মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। পরিবারের আবেদনের পর দেশে লাশ পাঠানোর উদ্যোগ নেয় দূতাবাস।

সার্বিয়ায় নিযুক্ত অনারারি কনসাল জেনারেল ডেভর ব্রেসিককে বিষয়টি জানানো হলে তিনি স্থানীয়ভাবে যোগাযোগ করে বাদলের মৃতদেহের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন এবং দেশে পাঠানোর বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ ও ফিউনারেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর লাশ দেশে পাঠানোর খরচ বহনের জন্য ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে চিঠি দেয় দূতাবাস। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন দেয় বোর্ড।

মেসার্স নূরজাহান রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ২০২১ সালের ১৭ নভেম্বর সাড়ে ছয় লাখ টাকায় “অসৎ উদ্দেশ্যে” সার্বিয়ায় পাঠানো হয় বাদলকে। চুক্তি ছিল সার্বিয়াতে সেখানে কোম্পানির কাজ দেওয়া হবে বাদলকে। কিন্তু বাদল সেখানে গিয়ে প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাননি।

নূরজাহান রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলে, কোম্পানি কয়েকদিন আগে বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের করার কিছুই নেই। এমন সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে উপায়ন্তর না পেয়ে বাদল সার্বিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

যদিও স্বজনদের দাবি, এ মৃত্যু হৃদরোগজনিত নয়, মানবপাচারকারীদের প্রতারণাতেই সার্বিয়ার রাস্তায় প্রাণ গেছে তার।

সোমবার (১৪ মার্চ) গভীর রাতে বাদলের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় দুজনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রাতে সাভার রাতায় থানায় হস্তান্তর করা হয়।