ক্যারাম খেলা নিয়ে সংঘর্ষ: নিহত ১

0
48

নিউজ ডেস্ক:
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নে ক্যারাম খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে সাব্বির আলী (১৭) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের উত্তর পাবই গ্রামে ক্যারাম খেলায় ব্যবহৃত ময়দার ১০ টাকা নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে রশিদ মিয়ার ছেলে সাব্বির আলী একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে ফয়ছল, জুয়েল ও কয়েছের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। এনিয়ে উভয়ের পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে সাব্বির গুরুতর আহত হয়। আহত সাব্বিরকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে সাব্বিরের মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

সরেজমিন বুধবার বিকেলে নিহত সাব্বিরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মৃত্যুতে বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। স্বজনরা আহাজারি করছিলেন। এসময় স্বজনদের সাথে কথা হলে তারা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান।

সাব্বিরের দাদা জলিল মিয়া বলেন, আমাদের বসত ঘরের সামেনে মঙ্গলবার দুপুরে আমার ছেলে শাহিন মিয়া প্রতিবেশি দুলাল মিয়ার ছেলে ফয়ছল, জুয়েল ও কয়েছ ক্যারাম খেলছিলো। এসময় সাব্বিরের ছোটভাই রাব্বি ক্যারাম খেলার আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু দুলাল মিয়ার ছেলেরা তাকে খেলায় না তুলে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে। এসময় সাব্বির এসে এই বিষয়ে কৈফিয়ত চাইলে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয় দুলালের ছেলে ফয়ছল, জুয়েল ও কয়েছ। দু’পক্ষের বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে ফয়ছলের ঘরের কয়েকজন মহিলা দেশীয় অস্ত্র (লাঠি, হুজা) দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় সাব্বিরের ওপর। এসময় হামলায় সাব্বির, তার চাচা শাহিন, শাহিনের পিতা জলিল মিয়া আহত হন। পরে আহতদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সাব্বিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাউসার দস্তগীর জানান, ঘটনা তদন্তের স্বার্থে ২ মহিলাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। নিহত সাব্বিরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here