এবার লকডাউনে পরিচয়পত্র বিক্রি! থানায় জিডি

0
104

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনার ক্লান্তিলগ্নে সরকার-প্রশাসনরা যখন ব্যস্ত সময় পার করছে আর সেসময়ে কিছু ভূয়া সাংবাদিক ফেসবুকে প্রকাশ্যে “সাংবাদিক পরিচয়পত্র” বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে নাম সর্বত্র টেলিভিশন চ্যানেল ও বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিক । যারা বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকার জাল পরিচয়পত্র বা নিজেদের নামেমাত্রে প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করে। এতে বিপাকে পড়ছেন পেশাদার সাংবাদিকরা।

আবার অনলাইনের যুগে একটা বুম (মাইক্রোফোন) আর একটা ইউটিউব চ্যানেল খুলেই বনে যাচ্ছেন অনলাইন টিভি চ্যানেলের মালিক । চটকদার কথাবার্তা আর নানা কৌশলে নানা শ্রেণিপেশার মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

কঠোর লকডাউনে সাংবাদিকদের চলাচলের নিষেধাজ্ঞা না থাকায় এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে একদল অসাধু অর্থলোভী ভুয়া সাংবাদিক । যারা পরিচয়পত্রের প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটিকোটি টাকা। যদিও এর আগে চা বিক্রেতার কাছেও সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দেখা গিয়েছিলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, ‘গত কয়েকদিন আগে Syful Islam Shuvo নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে পোষ্ট দিয়েছিল লকডাউনে অবাধ চলাচলের জন্য কেউ সাংবাদিক কার্ড নিতে আগ্রহী হলে তার সাথে যোগাযোগ করতে। পরবর্তিতে আমি যোগাযোগ করলে সে আমার কাছে ৫০০০ টাকা চায়। এত টাকা দিতে পারবো না বলে আর কার্ড নেয়া হয়নি।’

ভুক্তভোগীর দেয়া লিংকে গিয়ে দেখা যায়, ‘Syful Islam Shuvo’ আইডি থেকে একটি পোষ্ট করা হয় যেখানে লেখা ছিল, ‘লকডাউনে অবাধ চলাচলের জন্য সাংবাদিক কার্ডের বিকল্প নেই! কেউ কার্ড নিতে আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন !

এই পোষ্টের নিচে অনেক আগ্রহী ব্যক্তিদের মন্তব্য করতে দেখা যায়। সেখানে উক্ত ব্যক্তি তাদের ইনবক্সে যোগাযোগ করেন। পোষ্টটিতে সমালোচনাও করেন অনেকে। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পরতে দেখা যায় অনেক সাংবাদিককে।

পরিচয়পত্র বিক্রির বিষয়টি প্রশাসন ও প্রকৃত সাংবাদিকদের নজরে আনার লক্ষ্যে বিডি২৪লাইভের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট নাহিদ হাসানের তার ফেসবুকে স্ক্রিনশর্ট দিয়ে পোষ্ট করায় সাইফুল ইসলাম শুভ নামের ঐ ব্যক্তি নাহিদ হাসানের স্ট্যাটাসের নিচে নানা রকম অশ্লীল গালিগালাজ সহ হুমকি প্রদান করেন ।

এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেন সাংবাদিক নাহিদ হাসান। বিষয়টির জন্য মিরপুর মডেল থানায় অভিযোগ দিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন এ প্রকৃত সাংবাদিক। যার জিডি নম্বর ২৩৫২।

এবিষয়ে বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদ (বনেক) এর সভাপতি খায়রুল আলম রফিক একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন , ‘বিষয়টি সত্যি গুরুতর । সাংবাদিক পেশার নাম ভাঙ্গিয়ে আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে এক শ্রেণির মানুষ। এতে বিব্রত অবস্থায় পরতে হচ্ছে মূলধারার সাংবাদিকদের । এবিষয় প্রশাসন তৎপর হতে হবে, না হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরাধ বাড়তেই থাকবে ।’

সাইফুলের স্ট্যাটাসে কমেন্ট করে এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমককর্মী । তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা, ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রেসকার্ড বিক্রি করা একটি গর্হিত অপরাধ।

জানা যায় এই সাইফুল ইসলাম দৈনিক দেশজগত নামের একটি পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার। পড়ছেন আইন পেশায়। নিজের রয়েছে নাম সর্বস্ব একটি অনলাইন টিভি চ্যানেল । অনলাইন টিভি চ্যানেলের নাম ৪৭ টিভি। তার ফেসবুক টাইমলাইনে দেখা যায় বিভিন্ন পেশার কিছু লোকের সাক্ষাতকার ধারণ করে ফেসবুকে আপ করেছেন তিনি। তার ইউটিউব টিভি চ্যানেলের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে মাত্র ৬০ জন সাবস্ক্রাইবার রয়েছে।

নিজেকে কলামিস্ট দাবি করা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ও তো (নাহিদ হাসান) বেয়াদব, আমার ভার্সিটির ছোট ভাই । ও বিষয়টা খারাপ করছে। এটা একটা ফানি পোষ্ট । আমরা ফানি ভাবেই বিষয়টি নিয়েছি। ও তো ভাব নিয়ে হিরো সাজতে চাইছে। আমি আইনের ছাত্র। সব বিষয় ধারণা আছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here