আমেরিকান কন্যা সেজে সেই জাপা নেত্রীর ফের ‘প্রতারণা’

0
99

নিউজ ডেস্ক:
আমেরিকান প্রবাসী কন্যা সেজে আবারও ভয়ঙ্কর ফাঁদ পাতার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় মহিলা পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট মহানগরের সভাপতি শিউলি আক্তারের বিরুদ্ধে। এবার তার ফাঁদে পা দিলেন সুনামগঞ্জের এক সহজ-সরল যুবক (২৬)। গত ২ মার্চ সিলেট নগরীর মদীনা মার্কেটের একটি বাসায় বিয়ের নাটক সাজিয়ে জিম্মি করে শিউলি ও তার সহযোগিরা ওই যুবকের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত শিউলি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কুনারই গ্রামের মৃত তৌহিদ উল্লাহর মেয়ে তিনি। তিনি এর আগেও এমন প্রতরণার দায়ে গ্রেফতার হয়েছেন।

শিউলির সর্বশেষ প্রতারণার শিকার সুনামগঞ্জের ওই যুবক বলেন, ‘শিউলি চক্রের নির্দিষ্ট তিনজন ঘটক (দালাল) প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আমার বাবার সঙ্গে দেখা করে এক আমেরিকা প্রবাসী কন্যার খোঁজ দেন এবং আমার সঙ্গে বিয়ে দেয়ার আলাপ করেন। এই তিন ঘটকের একজন আমাদের এলাকার হওয়ায় বাবা সেই কথায় গুরুত্ব দেন। আলাপের এক পর্যায়ে ২ মার্চ নগরীর মদিনা মার্কেটস্থ নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার ১১ নং বাসায় কনে দেখা ধার্য্য করা হয়। ঘটকদের কথামতো ২ মার্চ (মঙ্গলবার) দুপুরে সে বাসায় কনে দেখতে যাই আমি ও আমার মা-বাবা। সে বাসায় ঢুকার পর পরই আমাদের শরীরে কী যেন স্প্রে করে ঘটক ও সেই বাসায় অবস্থানকারী ৭-৮ জন যুবক।

এরপর থেকে আমাদের স্বাভাবিক বিচার-বুদ্ধি হৃাস পায়। কথার একপর্যায়ে শিউলিকে আমাদের সামনে নিয়ে আসে তার মামা পরিচয়ধারী একজন। পরে আমার সঙ্গে বসে ছবিও তুলেন শিউলি। এসময় বিয়ের কাবিন ৫ লাখ টাকা সাব্যস্থ করে টাকা নগদ দেয়ার জন্য চাপ দেয় তারা। বিকেলে খাওয়া শেষে সন্ধ্যায় একজন ভুয়া কাজি ডেকে সাদা কাগজে আমাদের স্বাক্ষর নিয়ে ওই সময়ই বিয়ে (আকদ) পড়ানোর জন্য চাপ দিয়ে তারা বলে- আগামী শনিবার কনে আমেরিকায় চলে যাবে। তাই এখনই আকদ পড়াতে হবে এবং টাকা নগদ দিতে হবে। তখন আমাদের সঙ্গে থাকা ৮৫ হাজার টাকা তাদের হাতে দিয়ে আরও টাকা নেয়ার জন্য আমার বাবা ওই বাসা থেকে বেরিয়ে যান।

বাবা বেরিয়ে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ পর শিউলি ও তার চক্রের প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি ও আমার মা ওই বাসা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করি। কিন্তু শিউলির পোষা গুন্ডারা আমাকে বাসা থেকে বের হতে দেয়নি। এর আগে আমার মায়ের কফির কাপে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাকে প্রায় অচেতন করে ফেলে। বিষয়টি পরে বুঝতে পারি। রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমি মোবাইলে ফ্ল্যাক্সিলোড করার কথা বলে কৌশলে ওই বাসা থেকে বের হই এবং মদীনা মার্কেটের আমার এক বন্ধুকে ফোন করে সব কথা বলি। পরে আমার সে বন্ধু ও আমার এক চাচা আরো লোকজন নিয়ে এসে আমার মাকে ওই বাসা থেকে উদ্ধার করি। কিন্তু আমরা আসার আগেই শিউলি ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।’ এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নিবেন বলে জানান।

অভিযোগের বিষয়ে শিউলি আক্তার মঙ্গলবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন, ‘অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। যে দিনের কথা বলা হচ্ছে সে দিন আমি ঢাকায় রওশন এরশাদের বাসায় ছিলাম। এ বিষয়ে আমি পরে কথা বলবো। আমি এখন ঢাকায়, গাড়িতে আছি।’ সূত্র: সিলেট ভিউ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here