অনুদানের গুজবে বিয়ানীবাজারে কম্পিউটারের দোকানে শিক্ষার্থীদের ভিড়

0
80

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি:
করোনাকালে সব শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা সরকারি অনুদান দেওয়ার গুজবে গত শনিবার ও রবিবার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ঢল নেমেছিল বিয়ানীবাজার পৌরশহরে।

প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে উপজেলার স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগুলোতে ছিল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড়। ফটোকপি ও অনলাইন সার্ভিসের দোকানগুলোতেও পা ফেলার জায়গা ছিল না
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে গত ১৮ জানুয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের অনুদানসংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনার শিকার শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবে।

এ ক্ষেত্রে দুস্থ, প্রতিবন্ধী, গরিব ও অনগ্রসর ছাত্র-ছাত্রীরা অগ্রাধিকার পাবে। এই অনুদানের আবেদনের সময়সীমা ৭ই মার্চ পর্যন্ত। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবাইকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ায় বিয়ানীবাজার উপজেলাজুড়ে প্রত্যয়নপত্রের জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়।

বিয়ানীবাজারে রবিবার সকাল থেকেই প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার জন্য ভিড় করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। দুপুর ১২টার দিকে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, অন্তত সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী ভিড় করেছে প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার জন্য। কলেজ ক্যাম্পাস, ক্লাসরুম, একাডেমি ভবনের বারান্দা থেকে শুরু করে কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। এই পরিস্থিতিতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা পড়েছেন বিপাকে।

পেরৈ এলাকার লাইব্রেরী ও কম্পিউটার অনলাইনের দোকানগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। প্রতিটি আবেদন ফরম ২০টাকা ও অনলাইনে ফরম পূরণ বাবদ আরো ১শ’ টাকা করে নেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্টানের মালিকরা। তবে টাকা নিয়েও অনেকে ফরম পূরণ করতে পারেনি। শিক্ষার্থীদের সার্ভার ডাউন বলে বিদায় করে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নজরেও আনা হয়।

বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এম. হাসানুল হক উজ্জল বলেন, বিষয়টি গুজব। আর এ ধরণের গুজবে কান না দেয়াই ভালো। যে সেকল শিক্ষার্থীরা এ ধরণের গুজবের পিছনে ছুটছে, তারা লেখাপড়া করে কি শিক্ষা গ্রহণ করবে। তাদের জন্য সমবেদনা জানানো ছাড়া আর কোন উপায় নেই।
বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেন, গরীব-মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য মাউশি থেকে অনুদান দেয়া হবে। তবে কতজন কিংবা কত টাকা করে দেয়া হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা। আমাদের নোটিশ বোর্ডেও এমন কোন তথ্য দেয়া হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here