ভালোবাসা দিবসে রাইটার্স ক্যাফে’র কবি-লেখকদের অনুগল্প

3
206

রাইটার্স ক্যাফে প্রতিবেদক:

আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারী। বিশ্ব ভালবাসা দিবস। পুরো বিশ্বই আজ করোনা মহামারীকে ডিঙিয়ে ভালবাসা বিতরণে ব্যাস্ত। পিছিয়ে নেই সোস্যাল মিডিয়া গল্প, কবিতা ও লাইভ আয়োজনে।
লাভ এ্যাট ফার্স্ট সাইট’ বলে আসলেই কি কিছু আছে?
হ্যাঁ! আছে। জেনে নিন ফেসবুক সাহিত্য গ্রুপ রাইটার্স ক্যাফে’র কবি, লেখকদের অণুগল্পে ‘লাভ এ্যাট ফার্ষ্ট সাইট’।

ভালবাসা দিবসে ‘রাইটার্স ক্যাফে’র কবি-লেখকদের একগুচ্ছ ‌অনুগল্প


❤️
প্রথম দেখায় প্রেম
সুচন্দ্রা মুখার্জি

আমি তখন কৈশোর পেরিয়ে যৌবন ছুঁই ছুঁই যেদিন তার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা।পৌষের হিমেল কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে একদল ছেলেমেয়ের দল হৈ হুল্লোড় করে পিকনিক এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল মহা উদ্দীপনায়।

আমার ফ্রকের প্রান্তরেখায় যৌবনের চোখ রাঙানি;আর তরুণ যুবকের বিবশতার হাতছানি।প্রথম দেখার পর একটা ছোট্ট গোলাপী রঙের চিরকুটে লেখা ছিল “আমি তোমাকে ভালোবাসি।”আমি লজ্জায় আরক্ত সর্বাঙ্গে কামুকতার টকটকে শিহরণ।আবেগ কাঁটা তুলেছিল রোমকুপে রোমকুপে।শুধু নির্বাক চাহনি আর চোখে চোখে কথা।

বলেছিল আসবে ফিরে।আর এলনা।মিষ্টি রোদের উষ্ণতায়;ভরা পূর্ণিমায় তাকে খুঁজেছি।বেদউইনের মত আমরা দুজন ছিটকে গেলাম কে কোথায় জানিনা তারপর একদিন গোলাপ দিবসে দেখেছিলাম তাকে সঙ্গে নতুন প্রেয়সী।তার হাতে গোলাপের তোড়া।আমার প্রথম প্রেম ঝরাপাতা হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো একরাশ শূন্যতা নিয়ে।যেমন করে নির্জন পাহাড়ে ঝুপ করে নেমে আসে সূর্যাস্ত আমার প্রেমে কে যেন ভারী শিকল টেনে দিল।
দেখছি রক্তলালে কুঁকড়ে যাওয়া অস্তাচলের আকাশ টার গুমরে ওঠা বিদায়ী ব্যাথা।আমি ডানাছেঁড়া আহত প্রজাপতি আজও প্রথম প্রেমকে আঁকড়ে আছি।

এখন সে পরিণত বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে;আমি ও সংসারী বিবাহিতা ছেলেমেয়ের মা।কিন্তু কেন জানিনা আজও তাকে ভুলতে পারিনা;সে ও কি ভুলেছে আমাকে?সেও যে গন্ধপিয়াসী ভ্রমর?বারবার ছুটে আসে ফুলের মধু খেতে আমি শুনি ঐ রাতজাগা ক্ষয়িষ্ণু চাঁদটার বিরহী কান্না একাকীত্ব কে সঙ্গী করে।


❤️
প্রথম দর্শনে প্রেম
ইতি আক্তার

মা, আমি, বোন, কাজিন,আর ভাগনে একত্রে যাচ্ছিলাম মামার বাড়ি। ফ্রকের গন্ডি পেরিয়ে সেদিন প্রথম গোলাপি রঙের কামিজ পরেছি। পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া আমাকে সেদিন দেখতে একটু বড়ই লেগেছে।
লঞ্চের মেঝেতে চাদর বিছিয়ে মা বিশ্রাম নিচ্ছেন। আর আমরা বসে ভাগ্নেকে নিয়ে খেলছি। হঠাৎ এক যুবকের উপর নজর পরলো, এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হয় শত জন্ম ধরে আমাকে চিনে। কিছুটা ঘুরে বসলাম ইতস্তত হয়ে। ছেলেটা আমাকে একা দেখছে এমন হয়, আমিও একটু পরপর আড়চোখে দেখছি। কেনো যেনো ভালো লেগে গেল।
এটাকি তবে প্রথম দর্শনে প্রেম? ততটা বুঝার বয়স কি ছিলো তখন। ঘাটে নেমে যে যার গন্তব্যে রওয়ানা।

বিদায়বেলা কেমন যেন দেখার ইচ্ছা হলো কিন্তু সে তো এতক্ষণে নেমে গেছে। মন খারাপ নিয়ে বাসায় চলে আসা। দিন পাঁচেক পর তার সাথে আবার দেখা। চারপাশটা স্তব্ধ হয়ে গেল। কিন্তু ততক্ষনে এক নিমিষে-ই সে পাশ কাটিয়ে চলে গেছে। ভেবে ছিলাম ইমাজিন করেছি হয়ত।
পরদিন বিকাল মামার বাড়ির বাগানটায় গিয়ে মনের আনন্দে এ গাছ থেকে ও গাছে দৌঁড়াচ্ছি। হঠাৎ পা থমকে গেলো।
ওমা! সেই যুবক আমার সামনেই। ভয়ে দৌঁড় দিয়ে বাড়িতে চলে এলাম।
তারপর থেকে প্রতিদিন বাগানে যেতাম। সে কি আছে?ভাবতাম এই হয়ত প্রেম। একদিন সব ভাবনার অবসান ঘটল যখন মামাতো বোন থেকে জানতে পারলাম সে বিবাহিত। খুব মন খারাপ হয়েছিলো সেদিন। তার সাথে আর দেখাও হয় নি। এভাবেই ইতি ঘটে আমার লাভ এ্যাট ফার্স্ট সাইট।


❤️
ভালোবাসা
জান্নাতুল ফীরদাউসী

ভালোবাসা একটি আপেক্ষিক শব্দ
যার অর্থ বিশেষ স্বার্থ যা যখন তখন বদলায়
ইচ্ছায় অনিচ্ছায় বদলায়।
একটি শিশু যখন জন্ম লয়
যে তারে ভালোবাসে আগলে লয়
সেও তার আদো বলে জড়িয়ে কয়
তোমায় ছাড়া চলেই না।
কিন্তু একটু বড় যখন হয়
মায়ের প্রয়োজন যখন ফুড়িয়ে যায়
তখন ভালোবাসা ভিন্ন মোড় নেয়
সে নারী হলে নর চায় একান্তে
আর নর হলে নারীতে প্রশান্ত
একে ছাড়া অন্যের চলতে চায় না
মাত্রকিছুক্ষণ তারপর ভিন্ন আয়োজন।
স্রষ্টার প্রতি সৃষ্টির ভালোবাসায় নেইতো ভেজাল
তবে সেটাও বিশেষ স্বার্থের বাহিরে নয়
ভালোবাসা আসলে হিসাব বিজ্ঞানের ভাষায় লেনদেন বললেও মন্দ হবার নয়।
স্রষ্টা প্রতিদান দিবসে উপহার দিবে বলে সৃষ্টি তাকে আনুগত্য করে ও ভালোবাসে।
ভালোবাসা ভালোবাসা!
আরে কিসের ভালোবাসা?
সবই প্রয়োজনের প্রিয়জন বাজনার দুর্দান্ত সুর!
সময়ে আঁধার সময়ে নূর।

❤️
লাভ এট ফার্স্টসাইড
আরমান জিহাদ

সকালের সোনালী রোদ ঝলমল করছে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি স্কুল বন্ধুর জন্য। দু’জনে সবসময় একসাথে স্কুলে যাই।আজকেও তার ব্যতিক্রম নয়।
হঠাৎ করে নজরে পড়লো একটি মেয়ে আর একটি ছেলে কবুতরের জোড়ার মতো আসছে।তারাও একই স্কুলে যাবে।আমাদের গ্রামের কিন্তু আমি চিনি না এটা আমার ব্যর্থতা বলতে পারেন। চিনা আর অচেনা সেটা বড় কথা নয় প্রথম দেখাতেই মনের ভেতরে কেমন যেন ঢংকা বেজে উঠলো।
তাদের সাথেই হাঁটা শুরু করলাম স্কুলের উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য স্কুলে যাওয়ার জন্য সেখানে কোন যানবাহন চলাচল করে না তখন।
লাজুক একটি ছেলে শুধু তাকিয়েই তাকে কিছু বলে না দেখে মেয়েটি মুচকি মুচকি হাসে।
সেই হাসির মায়ার জালে আঁটকে যায় আমার হৃদয়।
চলতে থাকে স্বপ্ন বুনা।জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যুক্ত হতে থাকে মেয়েটি।সবসময় তার জন্য অপেক্ষা করা একটু কথা বলার চেষ্টা করা তার বাড়ীর আশেপাশে ঘুরঘুর করা নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে উঠে তখন।
এভাবেই চলে যায় দু’বছর ভালোবাসা হয়নি।একটুও মায়া জমেনি আমার জন্য তার হৃদয়ে।
দু’বছর পর হঠাৎ যখন তাকে আমার ভালোবাসার কথা জানাই সে অস্বীকার করে।আকাশ ভেঙে পরে মাথার উপরে।পাগলের মত হয়ে যাই আমি।
আজও ভালোবাসি তারে খুঁজে ফিরি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে।সে আসে না, সে হাসে না, সে বলে আমাকে ভালোবাসি।


❤️
২.
স্বপ্নের অপমৃত্যু
আরিফুল ইসলাম

সাইবার ক্যাফে গুলো সবে মাত্র যাত্রা শুরু করেছে।ইয়াহু মেসেনজার অনেক জনপ্রিয়।ইয়াহু মেসেনজারে ফিলিপাইন আর ইন্দোনেশিয়া এর লোকজন এর সাথে বেশি পরিচিত হতো বাংলাদেশের জনগন।
হঠাৎ ভিয়েতনামের এক সুন্দরী রুপসীর সাথে পরিচিত হলো।কথা বলতে বলতে সম্পর্ক ঘনিভূত হয়।
একদিন দেখি ওর কোনো খোঁজ খবর নেই পরে জানতে পেরেছি ওর বিয়ে হয়ে গেছে।সেদিন প্রথম চোখের কয়েকফোটা জল পড়েছিল…এভাবে বিসর্জনের মাধ্যমেই প্রথম লাভ এট ফাষ্ট সাইড সম্পর্কের ইতি ঘটে এবং স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটে।

❤️

প্রথম দর্শনেই কারো প্রেমে পড়া
তানিয়া সুলতানা হ্যাপি

ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় বসন্ত উৎসব সবাই মিলে উৎযাপন করলেও ভালোবাসা দিবসে পালন করতাম ঘুম দিবস। পড়াশোনা আর ক্যারিয়ার গুছিয়ে দেখি জীবনের সব রং এখনো বিবর্ণ হয়নি, তাই যে ক’দিন বাঁচবো বিশেষ কারো অপেক্ষাতে নয়, নিজের মতো করে উৎযাপন করার নিলাম শপথ। তাই অফিস থেকে ছুটি নিয়ে সোজা রওয়ানা হলাম কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে।

মনো ছবিতে কল্পনা করতেছিলাম এবার ভালোবাসা দিবসে নীল শাড়ী পড়ে সমুদ্রে সূর্যোদয়- সূর্যাস্ত দেখবো। হাতে নিবো একগুচ্ছ কমলা রংয়ের জারবেলা। মাথায় পড়বো ফুলেল তোরণ। হাঁটবো সমুদ্রকূল ঘেঁঘে। হেডফোনে শুনবো গান।

প্রেমে পড়া বারণ,
কারণে অকারণ।
আঙুলে আঙ্গুল রাখলেও হাত ধরা বারণ।
প্রেমে পড়া বারণ।

এমনি বাসের পিছনের সিটের কেউ একজন আমার কপাল চেপে ধরলো। ভয়ে চিৎকার দিয়ে চোখ মেলে দেখি ডিপার্টমেন্টের সেই ছেলেটা! দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন শেষে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরেছে। ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে মেধাবী, ইন্ট্রুভার্ট ছেলেটার স্পর্শ আর চাহনিতে মনে হলো জীবনে এই প্রথম তাঁকে দেখছি! এতোটা আপন তাঁকে কখনো মনে হয়নি আগে!

3 COMMENTS

  1. অসংখ্য ধন্যবাদ দৈনিক সত্যপ্রকাশ ডট কমকে। আমার লেখা তাতে প্রকাশ করার জন্য। অনেক ভালোবাসা হতাশা আপু তোমার জন্য ও এর সাথে যুক্ত সকল কলাকৌশলীর জন্যও কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা রইলো ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here