গাঁজা না দেয়ায় ওসমানীনগরে রিকশাচালক খুন!

0
86

ওসমানীনগর প্রতিনিধি:
গাঁজা সেবনকে কেন্দ্র করে সিলেটের ওসমানীনগরে রিকশাচালক কালু মিয়া খুন হয়েছেন। কালু খুনের ঘটনায় মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত হাসান মিয়া মনাই (২৬) মৌলভীবাজারের মীলপুর মাঝপাড়া গ্রামের ইলিয়াছ আলীর ছেলে। গত শুক্রবার মৌলভীবাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। থানা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাধে তিনি হত্যাকান্ডের সাথে ‘সরাসরি জড়িত’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, আজ শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকান্ডের সাথে ‘সরাসরি জড়িত’ বলে আদালতকে জানিয়েছে। পরবর্তীতে আদালত তাকে জেলহজাতে প্রেরণ করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাড়ায় একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে গহরপুর মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিলে যাবার কথা বলে ঘর থেকে বের হন বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের শিওরখাল গ্রামের মৃত জানু মিয়ার ছেলে কালু মিয়া। বালাগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর (গহরপুর) গ্রামের ছহুল আহমদের গরুর খামারের কাজে নিয়োজিত হাসান মিয়া মনাই এক সাথে কালু মিয়ার রিকশাযোগে ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর বাজারে উদ্দেশ্যে রওয়া হন।

পুলিশ জানায়, পথিমধ্যে কালু মিয়া পাঁচপাড়ার পোস্ট অফিসের কাছে আসলে দুর্ঘটনাবশত এক পথচারীর গায়ে রিকশা তুলে দেয়। সেখানেই ঘটে বিপত্তি। পথচারীর গায়ে রিকশা তুলার অপরাধে রিকশাসহ দুইজনকেই আহত ব্যক্তির শ^শুরবাড়িতে নিয়া আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে রিকশা আটকে রেখে চালক ও যাত্রী দুজনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়। তারা দুজনে পায়ে হেঁেট তাজপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। বাজারে পৌছে চালক কালু যাত্রী হাছানকে রেখে আলাদা হয়ে সরু একটি গলি দিয়ে ভিতরে যায়। কিছু সময় পর ফিরে এসে চালক কালু মিয়া গহরপুর মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। তারা দুইজনে পাঁয়ে হেঁটে কার ওয়াশের সামনে আসলে কালু মিয়া নিজের কাছে ২৫০ গ্রাম গাঁজা আছে এবং তা সে সেবন করবেন বলে যাত্রী হাসানকে জানায়।

যাত্রী হাসান চালক কালু মিয়ার কাছে সেবন করার জন্য কিছু গাঁজা চান। যাত্রীকে গাঁজা দিতে অপাগতা প্রকাশ করেন রিকশাচালক কালু। সেখানেই সব গাঁজা একাই সেবন করে কালু। এ কারণে ক্ষিপ্ত ছিলেন যাত্রী হাসান।

তারপর তারা দুজনে পায়ে হেঁটে দয়ামীরের দিকে রওয়ানা হন। কালু মিয়া গাঁজার নেশায় ছিলেন আচ্ছন্ন। হাওড়ের রাস্তা দিয়ে দুজনে পায়ে হেঁটে যাত্রা করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দয়ামীর ইউনিয়নের চকমন্ডল কাপন চকেরবন্দ পৌঁছালে কালু মিয়া হোঁচট খেয়ে পড়ে যান। তখন হাসান কালু মিয়ার কোন নড়াচড়া বা সাড়াশব্দ না পেয়ে কালু মিয়ার পরনে থাকা জ্যাকেট এর ফিতা ধরে কালু মিয়ার গলায় একটি গিট দিয়ে স্বজোরে টান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে কালু মিয়াকে ঐ অবস্থায় ফেলে রেখে হাসান পালিয়ে যায়। পরদিন ওই স্থান থেকে রিকশা চালক কালুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

একই দিন খুন হওয়ার চালকের পুত্র কয়েছ আহমদ জাহেদ বাদী হয়ে ওসমানীগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। চলে পুলিশের অভিযান। একপর্যায়ে পুলিশের খাঁচায় ধরা পড়েন হাসান।

ওসমানীগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শ্যামল বনিক বলেন, খুন হওয়া চালকের পুত্র বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ এ খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে। হত্যাকান্ডের সাথে সরিসরি জড়িত থাকায় হাসানকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here