চরমোনাইকে ‘চড়’ মারা সেই যুবককে যা করল ইসলামী আন্দোলন

0
93

নিউজ ডেস্ক:
সোমবার রাতে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর স্কুল মাঠে একটি ওয়াজ মাহফিলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম চরমোনাই পির এক বিক্ষুব্ধ যুবকের হামলার শিকার হন। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনার সময়ে চরমোনাই পিরের দল বলছে তিনি ‘পাগলের কবলে’ পড়েছিলেন।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকের অভিযোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যকে মূর্তি আখ্যা দিয়ে এর বিরোধিতা এবং নারীবিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়ার কারণে মেহেদী হাসান নামের ওই যুবক চড়াও হন চরমোনাই পিরের ওপর। ওই ওয়াজ মাহফিল ফেসবুকে লাইভও হচ্ছিল তবে হামলার এই ঘটনার পর লাইভ ভিডিও সরিয়ে ফেলার অভিযোগ অনেকের।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মিডিয়া উপ-কমিটির সদস্য কেএম শরীয়াতুল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পির সাহেবের বয়ান চলাকালে মেহেদী হাসান নামে স্থানীয় এক যুবক হঠাৎ করে মঞ্চে ওঠে তার (চরমোনাই পির) ওপর হামলা করতে উদ্যত হয়। এ সময় আশপাশে থাকা মাহফিল কমিটির নেতৃবৃন্দ ও মুসল্লিসহ অন্যান্যরা ওই যুবককে জাপটে ধরে নিবৃত্ত করেন।’তার দাবি, কেউ কেউ ওই যুবককে মারধরের চেষ্টা চালায়। তবে স্থানীয়রা ওই যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন বলার পর পির সাহেব তাকে ক্ষমা করে দেন।বিষয়টি পুঁজি করে কোনো কোনো গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরমোনাই পিরকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান জানান, বাকেরগঞ্জের মাহফিলে চরমোনাই পিরের ওপর হামলার চেষ্টার কথা তারা শুনেছেন। বিষয়টি নিয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। তবে ওই যুবককে বাসায় নিরাপদ হেফাজতে রাখার জন্য তার পরিবারকে বলা হয়েছে।উল্লেখ্য, সম্প্রতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা বিশেষ করে চরমোনাই পিরের দল ও মাওলানা মামুনুল হক উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে মূর্তি আখ্যা দিয়ে এটা নির্মিত হলে তারা ভেঙে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেবেন বলে হুমকিও দেন। গতমাসে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরও করা হয়। তাদের ওই হুমকির পর সারাদেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের আপত্তিতে সিলেটের একাধিক মাহফিলে অংশ নিতে পারেননি চরমোনাই পির ও মামুনুল হক। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলার আবেদনও তদন্তাধীন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here