স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা পরিস্কার করলেন বড়লেখার তরুণরা

0
58

নিউজ ডেস্ক:
কেউ ঝাড়ু দিচ্ছেন। কেউ ময়লা আবর্জনা টুকরিতে ভরছেন। কেউ তা নির্দিষ্ট স্থানে রেখে আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছেন। কেউ আবার সড়কের পাশে গজিয়ে ওঠা ছোটখাটো ঝোঁপঝাড় পরিস্কার করছেন। শুক্রবার (০৮ জানুয়ারি) সকালে এই দৃশ্য দেখা গেল মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের কাঠালতলী দক্ষিণ গ্রামের সাইডিংবাজার এলাকায়। কাঠালতলী দক্ষিণ গ্রামের কয়েকজন তরুণ স্বেচ্ছাশ্রমে কাঠালতলী-তেরাকুড়ি রাস্তার দুইপাশের প্রায় এক কিলোমিটার পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করেছেন।


এসব তরুণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের কাঠালতলী বাজার (মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়ক) থেকে পশ্চিম দিকে গেছে কাঠালতলী দক্ষিণ গ্রামের (সাইডিং বাজার) রাস্তা। রাস্তাটি সুজানগর ইউনিয়নের তেরাকুড়ি গ্রামের রাস্তার সঙ্গে মিশেছে। কাঠালতলী দক্ষিণ এলাকায় একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি মাদ্রাসা রয়েছে। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ আসা-যাওয়া করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ছোটখাটো যানবাহনও চলাচল করে। সড়কে দুইপাশে ছোটবড় বেশ কয়েকটি মুদি দোকান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব দোকান থেকে পলিথিনসহ ময়লা সড়কের পাশেই ফেলা হয়। এগুলো কখনও পুড়ানো বা সরানো হয়নি। ফলে ময়লা-আবর্জনাগুলো পচে পরিবেশ দূষিত হয়। এছাড়া সড়কের দুইপাশে গজিয়ে ওঠা ঝোপঝাড়ের কারণে সড়কও কিছুটা সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় এলাকার তরুণ সাঈব আহমদ ইয়াসের এসব কথা চিন্তা করে রাস্তার দুইপাশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেন। বিষয়টি তিনি এলাকার কয়েকজন তরুণকে জানান। পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার (০৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে এলাকার ১০-১২ জন তরুণ সাইডিং বাজারে এলাকায় কাঠালতলী-তেরাকুড়ি রাস্তার দুইপাশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেন।

এই কার্যক্রমের উদ্যোক্তা সাঈব আহমদ ইয়াসের বলেন, সাইংডিয়ে এক সময় বড় বাজার ছিল। এই এলাকার অনেক ঐতিহ্য আছে। এই এলাকায় তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। রাস্তার দুপাশে বেশ কয়েকটি মুদি দোকান আছে। এসব দোকান থেকে পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের ময়লা সড়কের দুইপাশে ফেলা হয়। এসব ময়লা-আবর্জনা কারণে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। তেমনি বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নিই। পরে এলাকার ছোটবড় কয়েকজনের সাথে বিষয়টি শেয়ার করি। তারা তাতে সাড়া দেন। তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ (শুক্রবার) থেকে কাজ শুরু করেছি। প্রায় এক কিলোমিটার আজকে পরিস্কার করেছি। এসব জায়গায় জীবানুনাশক স্প্রে ছিটিয়েছি। পাশাপাশি যেসব মুদি দোকানারি রাস্তার পাশে ময়লা ফেলতেন তাদের সচেতন করেছি। ব্যবসায়ীরাও আমাদের সহযোগিতা করছেন। আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এই কার্যক্রমে অংশ নেন এলাকার তরুণ শাহিদুল ইসলাম শাহেদ, আরিফ আহমদ টিপু, ফারুক আহমদ, আমজাদ হোসেন পাপলু, এমদাদুর রাজ্জাক রাব্বি ও মাহিন আহমদ প্রমুখ।

তারা বলেন, সড়কে দুইপাশে ময়লা আবর্জনা ছিল। দেখতে অনেকটা অসুন্দর লাগতো। এছাড়া ময়লা আবর্জনায় পড়ে গাছের পাতাগুলো ধূসর হয়ে পড়েছিল। তারা বলেন, সাঈব আহমদ ইয়াসের প্রথমে রাস্তার দুইপাশ পরিস্কার করার উদ্যোগ নেন। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ থেকে কাজ শুরু করেছি। পলিথিনসহ ময়লা-আবর্জনাগুলো একেক জায়গায় জমা করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


স্থানীয় মুদি দোকানদার রফিক উদ্দিন বলেন, অনেকেই দোকানে পরিস্কার করে পলিথিনসহ ময়লা সড়কের পাশে ফেলে দিতেন। আজকে এলাকার কয়েকজন তরুণ মিলে রাস্তার দুইপাশ পরিস্কার করেছেন। তারা আমাদেরও এবিষয়ে সচেতন করেছেন। এখন থেকে আমরা আমাদের দোকানে পলিথিনসহ যা জমবে তা পুড়িয়ে ফেলবো।


কাঠালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির শিক্ষানুরাগী সদস্য গৌছ উদ্দিন বলেন, রাস্তার দুই পাশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন দেখে অনেক সুন্দর লাগছে। অতীতে কেউ এভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করেনি। এলাকার পরিবেশ রক্ষায় তাদের মতো সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।


দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন বলেন, যেকোনো কাজ সবাই মিলে এক সাথে করলে তা সহজেই করা যায়। তা কাঠালতলী দক্ষিণ গ্রামের তরুণরা প্রমাণ করলেন। আসলে তারা রাস্তার দুইপাশ পরিস্কার-পরিচ্ছনতার যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। সকালে আমি তাদের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ঘুরে দেখেছি। তাদের মতো সবার উচিত নিজ নিজ এলাকার রাস্তা-ঘাট পরিস্কার করা। তাহলে দেশ বদলে যাবে, এগিয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here