অবশেষে সিলেটের আকাশে স্বপ্নের ডানা মেললো রিয়াদের ড্রোন

0
171

দৈনিক সত্যপ্রকাশ ডেস্ক: সৈয়দ গোলাম কাদির রিয়াদ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন ১নং ফেঞ্চুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের উপ-গণশিক্ষা সম্পাদকের দায়িত্বে আছে সে।

উপজেলার শত বছরের প্রাচীনতম বিদ্যাপিঠ কাসিম আলী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বয়সের বিবেচনায় সে খুব বেশি বড় নয়। কিন্তু তার স্বপ্নটা অনেক বিশাল। দীর্ঘদিন ধরেই সে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল একটি ড্রোন বানানোর। অবশেষে তার সেই চেষ্টা সফল হয়েছে।

মহান বিজয় দিবসে এই খুদে বিজ্ঞানীর তৈরি একটি ছোট ড্রোন তার নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাসিম আলী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের আকাশে উড়িয়েছে।

ড্রোন তৈরি করা খুদে বিজ্ঞানী জানায়, সে গত অক্টোবর এর শেষের দিকে ড্রোনটির নির্মাণকাজ শুরু করে এবং গত ৫ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শেষ হয়। ড্রোনটির সঙ্গে স্থাপন করা হয়েছে Fpv … Range 600-1000m ক্যামেরা। সে জানায়, বাংলাদেশে ড্রোন এর পার্টস এর দাম খুবই বেশি। যার কারনে পার্টস গুলো চায়না থেকে Hobby RC BD এই পেজটি থাকে এনে দেয়। আর এই করোনার সময় যেকোনো কিছুই বাহির থেকে আসতে সময় লাগে। হাতের কাছে সব পার্টস থাকলে এইরকম ড্রোন ৩-৪ ঘন্টায় বানানো সম্ভব।

তার বানানো এই ড্রোনটি বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডদের জন্য খুবই কার্যকরী বলে জানায় এই খুদে বিজ্ঞানী।

সে জানায়, আমি ট্রেজার গান ব্যবহার করতে চাচ্ছি। এটি এমন একটি বন্দুক যা কারো কোনো ক্ষতি করে না, কিন্তু যেকোনো অপরাধীকে আটকানোর জন্য এটি বেশ কার্যকর হবে। খুদে বিজ্ঞানী আরও জানায় বুলেট এর বদলে যে পিন ব্যবহার করা হয় তা কারো গায়ে খুবি মারাত্তক একটা শক দিতে পারে, তাই যতই শক্তিশালী অপরাধী হোক না কেনো সে ঐ জায়গাতেই থেমে যেতে বাধ্য।

বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড এটি দিয়ে কি করবে জানতে চাইলে এমন প্রশ্নের উত্তরে খুদে বিজ্ঞানী জানায়, আমরা জানি যে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ ও আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ এর কিছু চোরা-কারবারি অবৈধ জিনিস নিয়ে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করে বা পার্শ্ববর্তী দেশে যায়। এক্ষেত্রে যখন বিজিবির সদস্যরা ক্যাম্পে অবস্থান করছেন সেই সময় যদি ড্রোনের ১.৫-২ কিলোমিটার এর একটি ফ্লাইট দেওয়া যায় তাহলে যদি কোথাও ড্রোনের ক্যামেরায় সন্ধেহজনক কিছু দেখা যায় তখন ঐ জায়গায় বিজিবি সদস্যরা গিয়ে বিষয়টি বুঝে নিতে পারেন, আর যদি দেখা যায় যে কেউ একজন বর্ডার পার হওয়ার চেষ্টা করছে, সেই জায়গায় গিয়ে তাকে আটকানো সম্ভব হচ্ছে না তাহলে সেখানে বিজিবি সদস্যরা ড্রোন এর ট্রেজার গান ব্যাবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে উনারা অপরাধিকে কিছু সময়ের জন্য আটকাতে পারছেন এবং সেই সময়ের ভিতরে তারা সেখানে গিয়ে অপরাধীকে আটক করতে সক্ষম হবেন। এছাড়াও চাহিদা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন কাজে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানায় সে। যেমন কৃষি জমিতে ম্যাপ এর মাধ্যমে কীটনাশক স্প্রে বা উচু জায়গায় আগুন নিভানোর কাজে বা দূর্গম এলাকায় ছোটখাটো জিনিস পাঠানো ইত্যাদি।

ড্রোনটির সঙ্গে কী কী স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে জানতে চাইলে জানায়, কয়েক দিন পর এতে টেলিমেট্রি সংযুক্ত করতে চাচ্ছে সে,টেলিমেট্রি যুক্ত করলে আমরা স্মার্টফোন থেকে যেকোনো নির্দেশ ড্রোনকে দিতে পারবো এবং বিভিন্ন ধরনের মিশন ড্রোনকে দিতে পারবো। ১.৭ কেজি ড্রোনটি তৈরি করতে তার প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

ড্রোনটির নিজস্ব ওজন সহ বহন ক্ষমতা ৪.১ কে.জি। যদি আরো ভালো মটর আর বড় ফ্রেম ব্যবহার করা যায় তাহলে বহন ক্ষমতা আরো বাড়ানো সম্ভব বলে জানায় সে। প্রাথমিকভাবে এর রেঞ্জ ১.৫ কি.মি। কিন্তু তার কাছে উন্নত মানের ব্যাটারি না থাকায় সে ড্রোনটিকে বেশি দূর নিয়ে যেতে পারে না। এটিকে আরো বেশি প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও জনকল্যাণময় করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সে। যদি কোন প্রতিষ্ঠান বা সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতা করা হয় তাহলে আরো উন্নতমানের ড্রোন তৈরি করা সম্ভব।

ড্রোনটি বানানোর পূর্বে সে এস এস এফ রোবট(যেটি কোনো জায়গায় আগুন লাগলে সেখানে গিয়ে নিজে নিজে পানি স্প্রে করতে পারতো), এছাড়াও লেন্ড মাইন ডিফিউজ করার ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যেত এমন একটি প্রজেক্ট সহ আরো কয়েকটি ইলেকট্রিক যন্ত্র তৈরি করেছে এই খুদে বিজ্ঞানী। এছাড়া সে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন প্রজেক্টে কাজ করছে বলে জানায়।

ক্ষুদে বিজ্ঞানী গোলাম কাদিরের ড্রোন তৈরি সম্পর্কে কাসিম আলী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহাদুজ্জামান বলেন, আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের যে কোনো ধরনের বিজ্ঞানমনষ্ক গবেষণাকে উৎসাহিত করি। আমাদের এই শিক্ষার্থীর তৈরি ড্রোনটি বিজয় দিবসের দিন প্রথম বিদ্যালয়ের মাঠে আকাশে উড়ানো হয়। ক্ষুদে এই বিজ্ঞানীর এ আবিষ্কার আমাদের জন্য গর্বের।

এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এ.এম. ফারহান সাদিক বলেন, সৈয়দ গোলাম কাদির রিয়াদ ছোট বেলা থেকেই নতুন কিছু আবিষ্কারের জন্য ব্যস্ত থাকতো এবং এই ব্যাপারে আমার সাথে অনেক দিনই কথা বলেছে সে।

তার বাবা রনাঙ্গনের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তাইতো তার আবিষ্কারে দেশের সার্বভৌমত্বের চেতনা ফুটে উঠেছে। তার মেধা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিং এ উপস্থিতি থাকায় রিয়াদ-কে আমি ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের গণ-শিক্ষা বিষয়ক উপ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তার এই সাফল্য ছাত্রলীগ পরিবারের জন্য খুবই গৌরবের। সে ফেঞ্চুগঞ্জের মুখ আরোও উজ্জ্বল করবে বলে আমার বিশ্বাস। ভবিষ্যতে তার এই কার্যক্রমে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগীতা থাকবে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here