করোনায় দৈনন্দিন জীবনে আমূল পরিবর্তন

4
316

কল্পনা মিনা: আজ পৃথিবী আগের মতো নেই। অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি যেনো এক মৃত্যুপুরী । পৃথিবীর কোথাও জ্যাম নেই থেমে গেছে কোলাহল। বড় বড় শপিং মল আর দামী রেস্তোরাঁয় নেই কোনো ভীড় । পর্যটন কেন্দ্রগুলো জনমানবহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তালাবদ্ধ। সবচাইতে হৃদয়বিদারক মসজিদে যেতে পারছেন না মানুষ। হ্যাঁ আল্লাহ থামিয়ে দিয়েছেন সব। এই বিশাল সাম্রাজ্যের মালিক একমাত্র আল্লাহ । আর আমরা সবাই খালিহাতেই চলে যাবো পৃথিবীর অন্তরালে। এইসব কিছুই মনে করিয়ে দেয় আমরা এখন সবাই লকডাউন আছি।

হঠাৎ করেই বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে কেমন যেন বদলে গিয়েছে জীবন। কেউ অর্থসংকটে ভুগছেন কেউ আবার মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। দৈনন্দিন জীবনে আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে এই লকডাউন ব্যবস্থা। প্রতিদিন কাজে যাওয়া মানুষগুলো আজ গৃহবন্দী। কি করবেন বা কি করছেন তারা ?
চাকুরীজীবীরা কেউ বলছেন, পরিবারের সাথে কখনও এতো ঘনিষ্ঠ ভাবে সময় কাটানো হয়নি। সন্তানদের সাথে সময় কাটানোর পাশাপাশি সহধর্মিণীকে রান্নাতেও সাহায্য করছেন তারা, তবে এতো দীর্ঘ সময় গৃহবন্দি থাকা সত্যিই কষ্টকর ,অতি প্রয়োজনে বের হলেও মনের মধ্যে ভয় কাজ করছে । ভালো নেই ঘরের ছোট থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ মানুষরাও। খুব বেশী বুঝে উঠতে না পারা কোমলমতি শিশুরা যেতে চায় বাহিরে বাবা মায়ের কাছে প্রশ্ন কবে বের হবে বাহিরে, কবে আবার স্কুলের প্রিয় খেলার মাঠে খেলতে পারবে । অবুঝ শিশুদের এই প্রশ্নের জবাব জানা নেই আমাদের।

এই পরিস্থিতিতে অনেকেই আবার হয়ে উঠছেন পাকা রাঁধুনী। ঝটপট শিখে ফেলছেন নানা রকমের মজাদার রান্না। কখনও বা মায়ের কাছ থেকে সাহায্য নিচ্ছেন আবার ইউটিউব দেখেও চলছে রান্না শেখা কেউ আবার তৈরী করেছেন ঘর সাজানোর জিনিসপত্র । নিজেকে ব্যাস্ত রাখার জন্যই এইসব করা। অনেকেই বলছে নিজেদের প্রতিভাকে প্রকাশ করতে পারছেন তারা।

সাময়িক ভাবে ছুটি পেলেও ছুটি হয়নি মানবতার সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স,ব্যাংকার,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদের। নিরলস পরিশ্রমী এই দায়িত্ববান মানুষদের জীবন যেন পাল্টে গেছে আরো বেশী কাজের মাধ্যমে ।
নিজের জীবনের মায়া তুচ্ছ করে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ইতিমধ্যেই অনেক ডাক্তার এবং নার্সদের আমরা হারিয়েছি চিকিৎসা দিতে গিয়ে মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েছেন তারা। বিশ্বব্যাপী তাদের সেবা যেনো অম্লান হয়ে থাকবে। খুব কাছে থেকেই দেখেছেন কিভাবে জীবনের সাথে যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে একের পর এক তাজা প্রাণ। অনেক ডাক্তাররা সেবা দিচ্ছেন বাসায় গিয়ে আবার কেউ অনলাইনে নিজেদের ইউটিউব চ্যানেল এ লাইভে এসে দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় টিপস। কাজ থেকে ছুটি চাননা তারা জীবনের বিনিময়ে জীবন বাঁচাতে চেষ্টার ত্রুটি নেই তাদের।

পিছিয়ে নেই ব্যাংক কর্মকর্তারাও অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে তাদের ভূমিকা কোন অংশে কম নয় দায়িত্বকে এড়িয়ে যেতে চান না তারা ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদের কথা না বললেই নয়। দেশ বিদেশে যখন গৃহবন্দী সকল মানুষ তখন তারা ব্যাস্ত ব্যস্ততম নগরী এবং নগরীর মানুষদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার কাজে। মাইকিং করে করে এলাকায় হেটে হেটে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছেন তারা অনেকে আবার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পৌছে দিচ্ছেন বাসায় বাসায়।

“মা কবে যে এই মহামারী শেষ হবে! কবে যে দেশে আসবো আবার একসাথে হবো আমরা সবাই। ভাবতেও পারিনি এইরকম একটা পরিস্থিতি তৈরি হবে। এইখানে পরিস্থিতি অনেক খারাপ লাশের মিছিল যেন থামতে চায়না।”—কথাগুলো আমাদের রেমিট্যান্স যুদ্ধাদের।
বদলে গিয়েছে প্রবাসী মানুষদের নিত্যদিনের জীবনধারা। ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনেক প্রবাসীরা বন্দিদশায় করছেন খাবারের কষ্ট দিন গুনছেন কবে ঠিক হবে এই দম বন্ধকর পরিস্থিতির । দেশে মায়ের সাথে কথা বলতে গিয়ে আড়ষ্ট হয়ে উঠছে গলার কন্ঠস্বর ! পরিবার পরিজন ছেড়ে যাওয়া মানুষগুলো কবে বাড়ি ফিরবেন অনিশ্চিত হলেও সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন পরিবারকে অর্থনৈতিক সাহায্যের। তবে আয় রোজগার কমে যাওয়া আবার কারো চাকরী চলে যাওয়ার কারণে হতাশায় ভুগছেন তারা। অনেকেই আবার বেছে নিচ্ছেন আত্মহত্যার পথ। কঠিন এই সময়ে বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে জীবনের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া বীর সৈনিকদের মুখে আজ ক্লান্তির ছাপ।

কোভিড-১৯ এ যখন পুরো বিশ্ব সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর পরিবর্তনের সাথে সাথে জীবনধারায় নেমে এসেছে পরিবর্তন । কবে অদৃশ্য ভাইরাসের কবল থেকে রক্ষা পাবে বিশ্ববাসী কারো জানা নেই। তবে সময়গুলোকে যেন নষ্ট না করে আমরা জীবনধারায় পরিবর্তন গুলোকে মেনে নিতে পারি, সময়গুলোকে যেন ব্যায় করি ভালো কাজে। এই সময়ে আমাদের মানসিকভাবে ভেঙ্গে না পরে ধৈর্য্য সহকারে পরিস্থিতির মোকাবেলা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
মনে রাখতে হবে কঠিন এই পরিস্থিতি শেষ হবে একদিন ।
সেদিন জয় হবে জীবনের জয়।

Advertisement

4 COMMENTS

  1. খুব ভাল লিখেছেন,, এই মহামারী আমাদের কে অনেক কিছু শিক্ষা দিয়েছে রাস্তা-ঘাট শপিংমল আজ শূন্য।

  2. বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অনেক সুন্দর একটা লিখা। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।

  3. ধন্যবাদ কুইন আপু ধন্যবাদ দৈনিক সত্যপ্রকাশ এর রিপোর্টার কে লিখাটি প্রকাশ করার জন্য ।

  4. অনেক সুন্দরভাবে সকল বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়েছে। শুভেচ্ছা রইলো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here