করোনায় মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি

4
116
corona-viras-tensoin-news-করোনায় মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি

ইতি আক্তার: বর্তমানে আমরা করোনা নামক দুর্যোগের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছি। করোনা কেবল মানুষের স্বাস্থ্যকেই প্রাণহানি করছে না, সারাবিশ্বের বিশাল জনগোষ্ঠীকে ঠেলে দিয়েছে মানসিক বিপর্যয়ের মুখে।
করোনা প্রথমত চীনের উহান শহরের সংক্রমণ হলেও এখন সারা বিশ্বে এর প্রাদুর্ভাব।বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় করোনাভাইরাস হানা দিয়েছে। লকডাউন পুরো দেশ। খাদ্য সংকট, অর্থসংকট, সেবা সংকট পুরো দেশকে গ্রাস করছে।

সেই সাথে জনগণ মানসিক ভাবে ভেঙে পরছে। মানুষের মাঝে তৈরি হচ্ছে মানসিক অস্থিরতা ও হতাশা। নোবেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি যে যে মানসিক সমস্যায় ভোগে তা হলো মৃত্যুভীতি, শারীরিক উপসর্গের ভয়, দীর্ঘদিন পরিবার থেকে দুরে থাকার শূন্যতা, দীর্ঘ সময় নিয়ে সুস্থ হবার ভয়, আক্রান্ত হলেও সামাজিক বিরুপ মনোভাব।

শুধু মাত্র করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি নয় বিশাল জনগোষ্ঠী যারা এখনো আক্রান্ত হয়নি তারাও মানসিক সমস্যায় ভোগছেন। মৃত্যুভীতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপর অধিক নির্ভরতা, দীর্ঘদিন যাবৎ ঘৃহবন্দি, উপার্জনের উৎস ব্যহত হওয়া, সামাজিক অস্থিরতা, পারিবারিক কলহ ইত্যাদি সমস্যা গুলো বেড়েই চলছে দিন দিন।

ডা.যোবায়ের আনম চৌধুরির (জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল) মতে, মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির কিছু উপসর্গ দেখা যায়- অকারণে দুশ্চিন্তা – খিটখিটে মেজাজ হওয়া, অল্পতে রেগে যাওযা, হতাশা, অবসাদ, বিষণ্ণতা, নেশার প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত, পারিবারিক কলহ, সামাজিক অস্থিরতা।

আমরা চাইলে নিজেরাই এই মানসিক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারি। তার জন্য আমাদের কিছু নিয়ম ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। করোনা মানেই যে মৃত্যু না সেটা বুঝতে হবে। কিছু অভ্যাসের পরিবর্তন, খাদ্য রুটিনের পরিবর্তন আর সচেনতাই দিতে পারে স্বাভাবিক জীবন।পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় দিয়ে, নিজেকে ব্যস্ত রেখে যেমন (বই পড়া, ঘরের কাজে সাহায্য করা, ছবি আঁকা, ইনডোর গেমস খেলা, যোগব্যায়াম করা ইত্যাদি), পর্যাপ্ত ঘুম আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মোবাইল বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ করা, টেলিমেডিসিন এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনের বেশি ব্যয় না করা, আর্থিকভাবে দুস্থদের সাহায্য করা, বয়স্ক ও বাচ্চাদের প্রতি যত্নশীল হওয়া, নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থনা করা ইত্যাদি বিষয়বস্তু অনুসরণ করলে মানসিক বিষণ্ণতা অনেকটাই কেটে যাবে।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পূর্বে যোগাযোগ মাধ্যমে রটিত কিছু গুজবের কারণে মানুষ বিষয়টা হালকাভাবে নিয়েছে যার ফলস্বরৃপ বর্তমান পরিস্থিতি। আবার কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্যানিক তৈরি হয়েছে যার কারনে আত্মহত্যা প্রবণতা, সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছে।

ভুল তথ্যে স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্মীর প্রতি বিরৃপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। তাই অন্যকোনো মাধম্যে কান না দিয়ে WHO/ CDC/DGHS এর ওয়েবসাইটের সাহায্য নিন। করোনা নিয়ে অযথা বিভ্রান্ত না হয়ে সরকার কর্তৃক হটলাইন নাম্বারগুলো থেকে সেবা নিন।

করোনা মানেই মৃত্যু নয়। অযথা দুশ্চিন্তা করলে মানসিক ভাবে দূর্বল হবেন। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কার্যকর রাখতে মানসিক ভাবে সুস্থ হতে হবে। যদি শরীরের কোনো কমপ্লিকেশন না থাকে তাহলে ঘরে থেকেই সুস্থ হওয়া সম্ভব।

নিজের ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা রেখে নিজেকে আলাদা রেখে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সুস্থ হওয়া সম্ভব। পরিবারের আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে অমানবিক আচরণ না করে তাকে উৎসাহিত করতে হবে। প্রাণ খুলে হাসতে হবে। এরপরও যদি মানসিক সমস্যায় কেউ ভোগে তাকে অবশ্যই মানসিক ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

অবশেষে বলবো, নোবেল করোনা ভাইরাস একটি বৈশ্বিক মহামারি। আতঙ্ক নয় বরং সচেনতাই পারবে এ দূর্যোগ সময় কাটিয়ে তুলতে।
ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুন।

4 COMMENTS

  1. ধন্যবাদ দৈনিক সত্য প্রকাশ কে। মন থেকে কৃতজ্ঞতা সবাইকে

  2. করোনা মানেই মৃত্যু নয়। অসংখ্য ধন্যবাদ লেখিকা অনেক ভালো লিখছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here