মা দিবসে ‘রাইটার্স ক্যাফে’ গ্রুপের লেখক-লেখিকাদের অনুভূতি

14
346
মা দিবস, রাইটার্স ক্যাফে, গ্রুপ, লেখক, লেখিকা, অনুভূতি, ফেসুবক,

রাইটার্স ক্যাফে গ্রুপ প্রতিবেদক: মাতৃত্বের সম্মানার্তে পুরো বিশ্বে মা দিবস পালিত হচ্ছে এ বছর ১০ মে। মা’ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। আর মায়ের কাছে ‘সন্তান’ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
প্রতিটি মা ভালোবাসা ও মমতার চাদর জড়িয়ে সন্তানকে লালন করেন। নিজে না খেয়ে সন্তানের মুখে তুলে দেন। সন্তানের জন্য মায়ের মমতা শুধু মানুষের মধ্যেই বিদ্যমান নয়, পশুদের মধ্যেও লক্ষ্যনীয়।
চলতি বছরের জানুয়ারীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওটিতে দেখা যায় ভারতের উত্তরপ্রদেশের একটি জায়গার চার কুকুর শাবককে স্তন্যপান করাচ্ছে একটি ‘মা’ গরু।
জানা গিয়েছিল যে, ওই কুকুর শাবকদের মা গাড়ি চাপা পড়ে মারা গিয়েছিল। তারপর ঠান্ডায় অনাথ হয়ে পড়ে চারটি শাবক। তখনই এগিয়ে আসে আর এক ‘মা’ গরু। গরুর স্তন্যপান করেই সুস্থ হয় চারটি কুকুর ছানা। এটাই মা। মায়েরা এমনই হয়। সে মা হোক মানুষ বা পশু।
এমনি একটি দিনে পৃথিবীর সকল মায়েদের সম্মানার্থে ভিন্ন ভিন্ন ‌অনুভূতি প্রকাশ করেছেন ফেইসবুক সাহিত্য গ্রুপ ‘রাইটার্স ক্যাফে’ এর লেখক-লেখিকারা। আসুন এক নজরে দেখে নেই মায়ের প্রতি কার কেমন অনুভূতি।

নিচে লেখক-লেখিকাদের অনুভূতি তুলে ধরা হল:

বিরহের কবিতায় দুর্দান্ত গ্রুপটির সিনিয়র লেখিকা জিনাত আরা জিতু বলেন, ‘আমার মা পৃথিবীর সেরা মা বলতে পারলে প্রতিটা সন্তানই বোধহয় তৃপ্তি পায় মনে মনে; আমি তা বলবোনা আমি বলবো পৃথিবীর সব ‘মা’ ই সেরা।
মা কে কখনও ভালোবাসি বলা হয়নি, হয়তো ইহোজীবনে বলতেও পারবোনা। আমার মা তার কোন সন্তানকে বেশি ভালোবাসেন আমরা মাঝে মাঝেই তার হিসেব কষি, কিন্তু মেলাতে পারিনা। আমি মনে করি পৃথিবীতে বাবা ছাড়া একটা সন্তান বেঁচে থাকতে পারে কিন্তু মা ছাড়া বেঁচে থাকাটা অনেকটা সাঁতার না জানা মানুষকে প্রবল স্রোতে ফেলে দিয়ে বেঁচে ফিরে আসুক এই প্রত্যাশার মতো।
আম্মা…খুব ভালোবাসি আপনাকে এটা ভয়ঙ্কর রকমের সত্য। আপনি আগে মাঝে মাঝেই বলতেন পৃথিবীর যে কোনো কিছুর বিনিময়েই হোক আমি চাই তুই ভালো থাক, বেঁচে থাক। আমি আবারও আপনার মুখে এই কথাটা শুনতে চাই আম্মা; দোয়া করি আপনার সম্মান যেন অক্ষুন্ন থাকে সর্বস্তরে।

জীবনের অনেক সুন্দর মুহূর্ত ও দৃষ্টির অগোচরে মায়ের ভালোবাসা ক্যামেরাবন্দি

সাহিত্য জ্ঞানে অভিজ্ঞ কবি আসাদুজ্জামান শাওন বলেন, ‘যে মহান নারীকে চার শব্দের ক্ষুদ্র শব্দে বলা হয় নি কখনো “ভালোবাসি” তিনি হলেন আমার “মা”। মা’কে আলাদা করে ব্যাখ্যা করার মত জ্ঞানী আমি নই; সহজ-সরল (একটা উল্লেখ্য করলাম) আর্দশ মা হিসেবে যেসব গুণাবলী থাকা দরকার সবগুলো তার মাঝে বিদ্যমান।
আমার “মা” পৃথিবীর বোধহয় শ্রেষ্ঠ রাঁধুনী তার হাতে রান্না অতুলনীয়; আর যাই হোক তার হাতের রান্না ছাড়া বাইরে কোথাও খেয়ে শান্তি পাই না।
স্রষ্টা তাকে নেক হায়াৎ দান করুক সেই সাথে দীর্ঘায়ু দান করুক।এই প্রার্থনা হতে পারে মায়ের প্রতি আমার ভালোবাসা প্রকাশ – কিছু কিছু ভালোবাসা বরং লুকায়িত থাকুক; একান্ত নিজের কাছে।’

কবিতায় শুরু প্রাবন্ধিক জ্ঞানে দক্ষতার আলো লেখিকা সুমাইয়া আরিফিন বলেন, ‘দিনের মধ্যে ১০ বার আমার মায় আমারে বেত্তমিজ মেয়ে না কইলে আর আমিও আমার মায়ের মুখে বেত্তমিজ শব্দ না শুনলে আমাদের মা মেয়ের কারোই ভাত হজম হয়না।
মা যখন সন্দেহজনক চোখে আমার দিকে তাকাইয়া কইব, তোর মতো অসভ্য মেয়ে আমার পেটে কীভাবে হইলো! আমার মায়ের ওই তাকানোটাই তো আমার সেরা অনুভূতি।’


নতুন লেখক আহমেদ টিপু বলেছেন, ‘মা হচ্ছেন পৃথিবীর শ্রেষ্ট বন্ধু, মা’য়েদের সাথে সবকিছু শেয়ার করা যায় খুব সহজে, মা’য়েরা সবসময় সন্তানের ভুল ক্রুটিগুলো খুব সহজে মেনে নেন। মা’য়ের তুলনা শুধু একজন মা’ই, মা’য়ের ভালোবাসা পবিত্র এবং স্নিগ্ধ মা হচ্ছেন একটি সুখের নীড়।
বেঁচে থাকুক হাজার বছর পৃথিবীর সকল মা’য়েরা।
রাব্বির হাম’হুমা কামা রাব্বাইয়ানী ছাগীরা”


বাস্তবিক আবেগী লেখিকা কল্পনা ক্রন্দন মিনা বলেন, ‘মা শব্দটি ক্ষুদ্র হলেও পৃথিবীর সব ভালোবাসা এই শব্দেই মিশে আছে। নিজেকে কষ্ট দিয়ে মা হাসি ফুটাও পরিবারে। আমার ভালোলাগা যেন মায়ের কাছেই থাকে।
মা তুমি আমার স্নিগ্ধ সকাল, উজ্জ্বল দুপুর, গোধূলির সন্ধ্যা, রাতের আকাশের ঐ পূর্ণিমার চাঁদ। মা তুমি আমার শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা। মা তুমি আমার জান্নাত। আমার প্রতিদিনের প্রার্থনায় চাই তোমার দীর্ঘ নেক হায়াৎ । তোমাকে কতটুকু ভালোবাসি মা আমি বুঝাতে পারবোনা । ভালোবাসি মা তোমায় ভীষণ ভালোবাসি।’

লেখক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পৃথিবীর সব সন্তানের কাছে পবিত্র ও মধুরতম শব্দের নাম হলো “মা”। শান্তির ও মানবতার ধর্ম ইসলাম ‘মা’কে দিয়েছে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা ও সম্মান। ইসলামের দৃষ্টিতে বাবার চেয়ে মায়ের মর্যাদা তিন গুণ বেশি।
এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ করা হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি বিশ্বনবী হয়রত মুহাম্মাদ (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে জানতে চাইলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.) মানুষের মাঝে আমার নিকট থেকে সর্বোত্তম সেবা লাভের অধিকার কার? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমার মায়ের।
লোকটি পুনরায় জানতে চাইলেন, তারপর কার? তিনি বললেন, তোমার মায়ের। লোকটি পুনরায় জানতে চাইলেন, তার পর কার? তিনি বললেন, তোমার মায়ের। লোকটি আবারও জানতে চাইলেন, তারপর কার? তিনি বললেন, তোমার পিতার। -বোখারি ও মুসলিম।


নতুন লেখিকা ইতি আক্তার বলেন, ‘ছোট বেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর একা একজন মেয়েকে মানুষ করা মানুষটি আমার মা। প্রতিকুলতার সাথে সংগ্রাম করতে করতে মা কে কখনো ক্লান্ত হতে দেখেনি।
কখনো মাথায় ভারি কাপড়ের বস্তা নিয়ে ফেরি করা, কখনো অন্যের বাড়িতে রান্না করা, কখনো বা বাড়ির সামনে পিঠা বিক্রি করা। তার কি পরিমান কষ্ট তখন না বুঝলেও এখন বুঝি। সমাজে রুপবতী মেয়েদের টিকে থাকা দুর্বিষহ। ভালবাসি আপনাকে, সম্মান করি। ভাল থাকুক সকল মায়েরা।’

গ্রুপের সিনিয়র লেখক আলী আহমেদ বলেন, ‘মায়ের ভালোবাসা কেমন আমি বলতে পারবো না, তবে কিছু কথা বলি মা সম্পর্কে! আমি মাকে কখনো আমাদের আগে খেতে দেখিনি। বড় মাছ বা মাংসের টুকরো কখনো মায়ের পাতে দেখিনি। আমি মাকে কখনো ঈদে নতুন কাপড় পড়তে দেখেনি।
আমাদের জন্য নতুন কাপড় না কিনে উনার কখনো ঘুম হয়েছে আমি দেখিনি। কোথাও কোন বিপদ হলে মায়ের কাছে আগে আলৌকিক ভাবে পোছাতে দেখেছি। আমি অসুস্থ হলে সারারাত মাকে মাথার পাশে দেখেছি, তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে কাঁদতে দেখেছি।’

গ্রুপটির সিনিয়র লেখক আবদুল কাদের আরাফাত বলেন, অসুস্হ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল এর দিকে যাচ্ছিলাম, পথিমধ্যে মায়ের ফোন- কেমন আছ আব্বু? শরীর ভাল তো? কাল রাতে স্বপ্ন দেখেছি তুমি খুব অসুস্হ ।
অশ্রুজল গড়িয়ে পড়লো, অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে এলো- হে দয়াময়, কোন মাটি দিয়ে বানিয়েছো মাকে ।
মাঝে মাঝে আনমনা হয়ে ভাবি – একদিন তুমি থাকবে না, প্রকৃতির নিয়ম মেনে হয়তো মা ছাড়াই বাঁচতে হবে, চোখ ভিজে আসে, দিশেহারা হয়ে পড়ি ।
অনেক কিছুই লেখার ইচ্ছা ছিলো, কিন্তু এ সাধ্য কই! অশ্র ফোটায় বার বার বাধাগ্রস্হ হচ্ছে পুরনো পেন্সিলের লেখার গতি, কেবলই বলতে ইচ্ছে করছে- মা, তোমায় ভীষণ ভালবাসি ।

মা’কে নিয়ে আতিকুল মান্নানের সংক্ষিপ্ত শব্দচয়ন ছিল,

‘মা ! তুমি আমাকে জন্ম দিয়েছো তাই তোমার কাজ শেষ!
মা তুমি জানো না এই পারের বেড়ে ওঠা মা ছাড়া শিশু গুলো কি ভাবে বেড়ে ওঠে।

ওপার থেকে তুমি তা জানো না। পৃথিবীতে মায়ের অভাব ছিল না, তবুও আমার মতো মা ছাড়া বেড়ে ওঠা শিশুর হৃদপিন্ডে যন্ত্রণা; তুমি ওপার থেকে তা জানো না!’


গ্রুপটির নতুন লেখিকা তামান্না সুলতানা বলেন, ‘পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্বের একমাত্র মাধ্যম আমাদের মা। সন্তানের একমাত্র পরম বিশ্বস্ত বন্ধু হচ্ছেন মা। একমাত্র মাকে সব সুখ দুঃখের কথা বলা যায় নিঃসন্দেহে, তাই মায়ের সমতুল্য পৃথিবীতে আর কেউ নাই।
পৃথিবীর সকল ধর্মেই মাকে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে সবার উপরে। ইসলাম ধর্মে মাকে এতোটাই সম্মান দেওয়া হয়েছে, যে বলা হয় মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।
তাই মাকে সম্মান দিতে হবে সবচেয়ে বেশি আর মায়ের বাধ্যগত হয়ে চললে এতেই আমাদের চরম কল্যাণ নিহিত আছে। মাকে নিয়ে লিখে শেষ করা যাবে না, পৃথিবীর সকল মাকে আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা, ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল মা।’


লেখক আরমান জিহাদ বলেন, ‘জগতের সেরা পাওয়া একটি উপহার হলো মা। মা’কে ভালবাসতে পারলে স্বর্গের তৃপ্তি ধরাতে মিলে। মা শব্দটি পৃথিবীর একমাত্র শব্দ, যে শব্দ এতটা মধু ও বিশালতা বহন করে।
পৃথিবীতে যদি চাওয়ার একটি মাত্র অপশন দেওয়া হয় তবে আমি মা’কেই চাইব। যতটা কষ্ট, ধৈর্য আমি মা’কে সহ্য করতে দেখেছি ততটা আর কেউ করতে পারবে না। মায়ের চেয়ে এত ক্ষমাশীল ব্যক্তি দুনিয়ার বুকে আর দ্বিতীয়জন নেই।’

লেখক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পৃথিবীতে যদি সবচেয়ে মধুর শব্দ থাকে তাহলে ‘মা’। মা নিয়ে আমার বেশি কিছু বলার নেই কারণ পৃথিবীতে প্রতিটি মায়ের চরিত্র একই। মায়ের সাথে তুলনা করা যায় এমন কিছু পৃথিবীতে জন্মায়নি। মায়ের মুখের দিকে হাসি মুখে তাকালেই যে নেক পাওয়া যায় তা অন্য কিছুতে নয়।
কেউ যদি অন্তর থেকে আদর করে মা ডাকটি টান দিয়ে ডাকেন তখন আপনিই বুঝবেন কতটা প্রশান্তি পাওয়া যায় হৃদয়ের মাঝে।
আমি জানি মায়েরা কতটুক আত্মত্যাগ করে তাঁর সন্তানের জন্য। বিশ্বাস করুন সারা পৃথিবী একদিকে আমার মা আমার কাছে আরেক দিকে। আমি আমার মাকে কতটা ভালোবাসি ঐ উপরওয়ালা জানে।’


গ্রুপটির পাঠক রায়হানা ইতু বলেন, ‘মা মা মা! আমার মা!  মা’কে মা ছাড়া আর কোনো কিছু দিয়েই ব্যাখা করা সম্ভব না আমার দ্বারা।’

আমাদের মায়েরা এমনই হয়। এই দিনে সকল মায়েদের প্রতি সামান্য কৃতজ্ঞতা জমা থাকুক প্রতিটি সন্তানের হ্নদয়ের মাঝে। প্রতিটি মায়ের বুক জুড়ে ঘিরে থাকুক তার প্রিয় সন্তানেরা। ‘মা দিবস’ হোক সকল মায়ের জন্য বিশেষ একটি দিন। ‘মা দিবস’ হোক প্রতিটা মায়ের মুখে হাসি ফুটানোর অঙ্গীকার।

14 COMMENTS

  1. আন্তরিক ধন্যবাদ হতাশা কুইন আপুকে আর মায়ের তুলনা হয়না সকল মাকে আমার বিনম্র শ্রদ্ধা

  2. ধন্যবাদ ডেইলি সত্য প্রকাশকে। ভাল লাগলো সকলের অনুভূতি। জেনে।

  3. আন্তরিক শ্রদ্ধা পৃথিবীর সকল মা, ভালোবাসা হতাশা কুইন আপুকে

  4. পৃথিবীর সকল মায়েদের প্রতি রইল বিনস্র শ্রদ্ধ।

  5. সকল মায়েদের জানাই শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। ধন্যবাদ daily sotto prokash.

  6. তথ্যসমৃদ্ধ অনেক সুন্দর একটি লেখা। সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

  7. মা দিবসে সকল মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধ। আল্লাহ সবার মা বাবাকে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন।

  8. মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রতিদিন প্রতিমুহূর্ত। ভালোবাসা পৃথিবীর সব মায়েদের প্রতি।ধন্যবাদ লিখাগুলো প্রকাশ করার জন্য।

  9. ধন্যবাদ “দৈনিক সত্য প্রকাশ”অনলাইন পত্রিকাকে “মা দিবস” উপলক্ষে এমন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য।

  10. পৃথিবীর সকল মায়েদের জন্যশ্রদ্ধাও ভালবাসা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here