নতুন ঠিকানা পেল রাস্তায় পড়ে থাকা নূরনাহার

0
299

ফাহাদ মারুফ: দীর্ঘ ৩ মাস ১৫ দিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে অবশেষে নতুন ঠিকানা খুঁজে পেল রাস্তায় পড়ে থাকা পাগলী মেয়ে নূরনাহার। অামতলী থানার ফেসবুক বন্ধু আরজু আফরোজ বীথির নিজস্ব বিউটি পার্লার “আফরিন বিউটি পার্লার” এ শুক্রবার থেকে নূরনাহারের নতুন জীবন শুরু হবে।১২ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টার “এম ভি ইয়াদ” লন্ছে ঢাকা সদরঘাট থেকে বরগুনা জেলার অামতলী থানার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় নূরনাহার।

আরো পড়ুন: পাগলী মেয়ে নূরনাহারের না জানা কিছু কথা ও ব্যাংকার শামীম


বীথির পরিবাবের সাথে থেকে নূরনাহার বিউটি পার্লারের কাজ শিখবে। বেশ কিছুদিন অাগে বীথি ঢাকাস্হ জাতীয় মানসিক হাসপাতালে এসে নূরনাহারকে দেখে গিয়েছিলেন। তখনই বীথি নূরনাহারকে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে পোষন করেন।

ফেসবুক বন্ধু বীথি ও নূরনাহার

ব্যাংকার শামীমের উদ্যোগে হেল্পিং হেন্ডস বিডির মাধ্যমে এই পর্যন্ত প্রায় ১৫ জন রাস্তায় পড়ে থাকা মানসিক রোগীকে রাস্তা থেকে নিয়ে এসে মানসিক হাসপাতালে ভর্ত্তি করিয়ে, চিকিৎসা দিয়ে,পরিবার খুঁজে বের করে, পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।

তবে এর মধ্যে দুইজন রোগীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় নি।

তার মাঝে মানিকগন্জের গিওর উপজেলা থেকে ২০১৫ সালে নিয়ে অাসা মানসিক রোগী ” পারুলী” র পরিবারের খোঁজ এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘ ২ বছর একজন নারী অায়ার তত্বাবধানে অামাদের কাছে রাখার পর প্রায় ২ বছর অাগে সাভারের এক ফেসবুক বন্ধু “নাদিয়া অাফরোজ রুমকী”র বৃদ্ধ বাবা মায়ের কাছে পারুলীকে রাখা হয়েছে।

তাছাড়া বনানীর রাস্তা থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্হায় খুজে পাওয়া রংপুর জেলার লালমনিরহাটের নূরনাহারকে তার মা ও সৎ বাবা গ্রহন করতে অাগ্রহ প্রকাশ করেননি বিধায় তার বাবা মায়ের সম্মতি নিয়ে নূরনাহারের ইচ্ছে অনুযায়ী বরগুনা জেলার অামতলার ফেসবুক বন্ধু বীথির সাথে তাকে অামতলাতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।সেইখানেই সে বীথির সাথে বীথির নিজস্হ বিউটি পার্লারে কাজ করবে।

বেশ কিছু দিন অাগে ব্যাংকার শামীমের একটা পোষ্ট পেয়ে নূরনাহারকে নেয়ার জন্য উনার এক অামেরিকার প্রবাসী বন্ধু ওনার ঢাকার বাড়িতে মা ও ছেলে মেয়েদের সাথে রাখার জন্য অামেরিকা থেকে ফোনে নূরনাহারকে নেয়ার ইচ্ছে পোষন করেছিলেন।

তাছাড়া ইতালীর এক ফেসবুক বন্ধু তাঁর গ্রামের বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলাতে তাঁর বাবা মায়ের সাথে রাখার জন্য ইতালী থেকে ফোনে ইচ্ছে পোষন করেছিলেন।যেহেতু নূরনাহার বিউটি পার্লারে কাজ করার খুবই ইচ্ছে ছিলো।
তাই সব কিছু বিবেচনা করে নূরনাহারকে বীথির সাথে “অাফরিন বিউটি পার্লারে” কাজ করার জন্য পাঠানো হলো।

ব্যাংকার শামীম দৈনিক সত্য প্রকাশকে বলেন, মানবিক এই কাজটি করতে গিয়ে অামাদের যেমন সফলতা অাছে তেমনি অাছে ব্যর্থতা।অামরা এখনো পর্যন্ত সাভারে নাদিয়া অাফরোজ রুমকির বাবা মায়ের সাথে অবস্হান করা মানিকগন্জের ” পারুলী” কে দেখতে যেতে পারিনি।

তবে সময় করে দেখে অাসার ইচ্ছে অাছে।অনেক কিছু করার ইচ্ছে থাকলেও চাকুরী ও সংসারের পাশাপাশি সব কিছু করতে পারিনা। খুব শ্রীগ্রই নূরনাহারকে দেখতে বরগুনার অামতলাতে যাওয়ার ইচ্ছে অাছে।
তিনি আরো বলেন, সর্বশেষে একটা কথাই বলবো সাভারের বন্ধু নাদিয়া অাফরোজ রুমকি ও বরগুনার বন্ধু অারজু অাফরোজ বীথি অামাদের দুইজন মানসিক রোগী সুস্হ্য হবার পর তাদের পূর্নবাসনের ব্যবস্হা করে মহত্বের পরিচয় দিয়েছেন।

দোয়া করি যেনো এই দেশে রুমকি ও বীথিদের মতো অারো অনেক রুমকি ও বীথির জন্ম হয়।তাহলে অারো অনেক মানুষ উপকৃত হবে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here