অধ্যক্ষ বিহীন সিলেট সদরের সাহেবের বাজার স্কুল অ্যান্ড কলেজ

0
99
অধ্যক্ষ বিহীন সিলেট সদরের সাহেবের বাজার স্কুল অ্যান্ড কলেজ
দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর ধরে অধ্যক্ষ বিহীন চলছে সিলেটের সাহেবের বাজার স্কুল অ্যান্ড কলেজ।এ যেনো এক ড্রাইভার বিহীন গাড়ী,গন্তব্য হীন পথচলা। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশীদকে দ্বায়িত্ব দেয়া হলেও তিনি রীতিমতো কলেজে আসেন না বলে অভিযোগ করেছেন খোদ গভর্নিং বডির শিক্ষানুরাগী সদস্য মামুনুর রশীদ শামিমসহ একাধিক সদস্য।
সরেজমিনে (২৭নভেম্বর) সাহেবের বাজার স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা যায় পরীক্ষা চলছে কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনুপস্থিত।
দশম শ্রেণির ছাত্র কামরান ও একাধিক ছাত্র  জানায়,ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশীদকে নিয়ে আমাদের অনেক অভিযোগ রয়েছে। বিষয় ভিত্তিক ঠিকমতো টিচার নেই,ক্লাসও হয়না।এতে আমাদের ছাত্ররা ক্ষুব্ধ।মৌন বিক্ষোভে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এসময় দুপুর ১টায় শতাধিক ছাত্রকে কলেজের ফটকে দাড়িয়ে বিভিন্ন দাবী দাওয়া নিয়ে  গভর্নিং কমিটির সদস্যদের কাছে অভিযোগ তুলে ধরতে দেখা যায়।
অভিযোগের সম্মুখে ছাত্রদের সাথে তাৎক্ষণিক শান্তনা দিয়ে তাদের সাথে কথা বলেন গভর্নিং কমিটির নির্বাচিত সদস্য আব্দুল খালিক, এসএম তারা মিয়া,আব্দুল আলিম,সাবেক সদস্য ফয়জুল ইসলাম,শিক্ষানুরাগী সদস্য মামুনুর রশীদ শামিম ও মহিলা সদস্য নেহারুন নেছা।এসময়  ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশীদকে ফোন করলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।বার বার চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।ঘন্টাখানেক পর অবশ্য তিনি কল বেক করে নগর নিউজকে জানান,তার মুঠোফোনে চার্জ ছিলোনা।স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারণ ও তার সম্পর্কে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি ব্যাখ্যা করেন এভাবে,কলেজে রেগুলারই যাই,রেজুলেশন দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন,অভিযোগ করতেই পারে,তবে আজ যেতে পারিনি এটি সত্য,সিনিয়র শিক্ষক হাবিবুর রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছি।তবে,সিনিয়র শিক্ষক হাবিবুর রহমান দায়িত্ব নেয়ার কথা অস্বীকার করে  প্রতিবেদককে জানান,ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশীদ আজ (২৭নভেম্বর) কলেজে আসেননি এটা সত্য,আমাকেও কোন দায়িত্ব দেননি তিনি,আমিও  কোন দায়িত্ব নেইনি,এর চেয়ে বেশী কিছু বলতে রাজী হননি হাবিবুর রহমান।
সাহেবের বাজার  স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং কমিটির বর্তমান  সভাপতি সিলেটের কাজীর বাজারের স্বত্বাধিকারী শিল্পপতি আফসর উদ্দিন। এসময় গভর্নিং কমিটির সভাপতি  আফসর উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নগর নিউজ ২৪ ডটকমকে জানান,কলেজে ছাত্রদের সংঘবদ্ধ উপস্থিতি, বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অনুপস্থিতি  সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না,তবে নিয়মিত তিনি কলেজের মিটিংয়ে অংশ নেন এবং উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।অধ্যক্ষ দেবেন্দ্র কুমার বাইরে কেন,এমন প্রশ্ন করলে তিনি জানান,বোর্ডে তার নামে অভিযোগ রয়েছে এবং সেই অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত চলছে,দেবেন্দ্র কুমার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত,বোর্ড তাকে সাসপেন্ড করেছে,দেবেন্দ্র কুমার সিংহ  কোন ভাবেই কলেজে আসতে পারেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।এদিকে দেবেন্দ্র কুমার সিংহের সাথে এসময় যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,কমিটি আমাকে বছরখানেক আগে স্বপদে ফিরিয়ে নিয়েছিলো,কয়েকদিন আমি রেগুলার ক্লাসেও গিয়েছি কিন্তু আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয় না,গভর্নিং কমিটি ও সভাপতির উদাসিনতাকে দায়ী করেন তিনি।
একটি সূত্র জানায়,দেবেন্দ্র কুমার সিংহ কলেজে না গেলেও বসে বসে সরকারি রুলসে বেতন ভাতা পেয়েই যাচ্ছেন।আরও জানা যায়,৪বছর আগে তার নামে প্রথমে নোটিশ পাঠায় সিলেট শিক্ষা বোর্ড কিন্তু তিনি সদুত্তর দিতে না পারায় বহিষ্কার হন।তবে তা কার্যকরী ছিলো না,লিখিত ভাবে  তাকে কোন বহিষ্কার আদেশপত্রও দেয়া  হয়নি।তাই গভর্নিং কমিটি তাকে চেয়ারে বসিয়েছিলো কিন্তু অদৃশ্য কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে দায়িত্ব দেয়নি।এখন সংখ্যাগরিষ্ট ছাত্র ও গভর্নিং কমিটির সদস্য তাকে আবার স্বপদে ফেরাতে চায়।গভর্নিং কমিটির দু’ একজন সদস্যের ভিতরে অনৈক্য ও দেখা দিয়েছে বলে জানায় ঐ সূত্র। আরও
জানা যায়,আগামী ডিসেম্বর মাসেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে বর্তমান দ্বি-বার্ষিক  গভর্নিং কমিটির।পরীক্ষা শেষে স্কুল ও বন্ধ হয়ে যাবে।পরবর্তী নতুন কমিটি আসার আগ পর্যন্ত স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা করবে এডহক কমিটি।এদিকে এডহক কমিটি গঠনের তোড়জোড় ও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।