সিলেটে টুপি-পাঞ্জাবি পরায় দুই প্রভাষককে ‘অব্যাহতি’

0
145

নিউজ ডেস্ক:
যুবককে আড়ংয়ে দাড়ি কেটে চাকরিতে যোগদানের ঘটনার পর এবার টুপি ও পাঞ্জাবি পরে নিয়মিত ক্লাসে আসায় সিলেট জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের দুই প্রভাষককে অব্যাহতি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। গত ৩১ মার্চ গভর্নিং বডির মিটিংয়ে এই দুই প্রভাষককে কলেজে না আসার বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়ে দেন অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মো. কুদ্দুসুর রহমান। এ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়।

শনিবার (৩ এপ্রিল) জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সামনে প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন।

অব্যাহতি পাওয়া দুজন হচ্ছেন- সিলেট জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আব্দুল হালিম ও আইসিটি বিভাগের প্রভাষক মুজাহিদুল ইসলাম।

এ বিষয়ে প্রভাষক আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমি ও প্রভাষক মুজাহিদুল ইসলাম নিয়োগের সময় পাঞ্জাবি-টুপি পরে কলেজে আসার জন্য গভর্নিং বডির কাছে আবেদন করি। আমাদের তখন লিখিতভাবে অনুমতি প্রদান করা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ কর্নেল সোহেল উদ্দিন পাঠান এ বিষয়ে বেঁকে বসেন। তিনি আমাদেরকে শার্ট-প্যান্ট পরে আসতে চাপ সৃষ্টি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মো. কুদ্দুসুর রহমান তিনবার আমাদেরকে নোটিশ প্রদান করেন। সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ গভর্নিং বডির বৈঠক ডেকে আমাদেরকে আর কলেজে না আসতে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেন। তবে আমাদেরকে লিখিতভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি।’

এদিকে, টুপি-পাঞ্জাবি পরার কারণে কলেজের দুই প্রভাষককে অব্যাহতির খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে। এছাড়াও শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার সময় কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন।মানববন্ধনে প্রভাষক আব্দুল হালিম ও মুজাহিদুল ইসলামকে দ্রুত কলেজে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন কলেজ কতৃপক্ষের এই ধরনের নির্দেশনা সম্পূর্ণ সংবিধান ও হাইকোর্টের নির্দেশনা পরিপন্থী।
কেননা ৪/১০/২০১০ তারিখে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দীন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এক রায়ে বলেন, ” ধর্ম নিরপেক্ষ দেশে কোনো ব্যক্তিকে কোনো ধর্মীয় পোষাক পড়তে বাধ্য করা যায় না। সকল মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। কোনো ধর্মীয় পোশাক কারো ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
একই কারণে কাউকে কোনো ধর্মীয় পোশাক পড়তে নিষেধও করা যাবে না। প্রতিটি মানুষের অধিকার রয়েছে শালিনতা বজায় রেখে তার পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরিধানের।”

তবে শনিবার দুপুরে কলেজের সামনে মানববন্ধনকালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল আরিফুল ইসলাম রেজা বলেন, ‘অনলাইনে যে বিষয়টি ভাইরাল হয়েছে তা সত্যি নয়। প্রভাষক আব্দুল হালিম ও মুজাহিদুল ইসলামের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বা তাদের চাকরীচ্যুত করা হয়নি। গভর্নিং বডির ৫২ তম মিটিংয়ে তাদেরকে ডেকে প্রতিষ্ঠানের পোষাকবিধি মানার জন্য কঠোরভাবে বলা হয় এবং ৩১ মার্চের আগে তাদেরকে তিনবার শোকজ পাঠানো হয়। কিন্তু বার বারই তারা দুজন প্রতিষ্ঠানের পোষাকবিধি মানতে অনীহা প্রকাশ করেন। সর্বশেষ ৩১ মার্চ গভর্নিং বডির মিটিংয়ে তাদেরকে ডেকে বলা হয়- প্রতিষ্ঠানের পোষাকবিধি না মানলে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিতে পারেন। তবে তাদেরকে চাকরীচ্যুত করা হয়নি। এটাই তাদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ।’

এবিষয়ে প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ মো. আরিফ সেলিম রেজা বলেন, প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে। তারা নীতিমালা ভঙ্গ করেছেন। তাই প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা মধ্য থেকেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।