সিলেটে অটোরিকশায় ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে অপরাধীরা!

0
22

নিউজ ডেস্ক:
সিলেট নগরীতে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপরাধী সিন্ডিকেট। সিএনজি অটোরিকশা করে এরা ঘুরে বেড়ায় পুরো শহর। টার্গেট ঠিক করে যায় অপারেশনে।

অটোরিকশায় তুলে তারা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে যাত্রীদের কাছ থেকে লুটে নেয় নগদ টাকা, মোবাইল ফোন। যাত্রীদের অজ্ঞান করে অপহরণের ঘটনাও ঘটছে।

এ ছাড়া অটোরিকশা যাত্রীদের নানাভাবে প্রলুব্ধ করে নকল স্বর্ণ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই অপরাধী চক্রের সদস্যদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই অভিযানে নামবে তারা।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে সিলেট নগরীর সুবিদবাজারের বাসা থেকে নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ব শাহী ঈদগায়ে শাহ মীর (রহ.) হাফিজিয়া মাদাসায় ফিরছিল কিশোর আবদুর রহিম। সিএনজি অটোরিকশায় যাওয়ার পথে জ্ঞান হারায় আবদুর রহিম। বিকালে সে নিজেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে আবিষ্কার করে। অপহরণকারী চক্রের খপ্পরে পড়া আবদুর রহিম পরে সিলেটের এক পুলিশ কর্মকর্তার সহযোগিতায় ফিরে আসে।

কয়েকদিন আগে নগরীর শাহী ঈদগাহ টিভি গেট এলাকার এক নারী দুপুরে আম্বরখানা থেকে সদাইপাতি করে বাসায় ফিরছিলেন। সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে বাসায় ফেরার পথে চালক রাস্তায় জোর করে আরেকজন যাত্রী ওঠায়। কলবাখানি এলাকায় যাওয়ার পর ওই যাত্রী কিছু একটা স্প্রে করে মহিলা যাত্রীর চোখে-মুখে। এরপর যাত্রীবেশী ওই দুর্বৃত্তের কথামতো তিনি কানের দুল, মোবাইল ফোন ও টাকা তুলে দেন। স্প্রের পর ওই নারী যাত্রী তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ গ্রামের বাড়ি থেকে বাসে কুমারগাঁও টার্মিনালে আসেন সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গালে হরিমোহন রায়ের স্ত্রী জয়ন্তী রানী রায় ও মেয়ে পপি রানী রায়। টার্মিনালে নামার পরই তারা সিএনজি অটোরিকশায় ওতপেতে থাকা প্রতারক চক্রের টার্গেটে পরিণত হন। কতিপয় অটোরিকশা চালকের নেতৃত্বে এ চক্রটি নগরীর ব্যস্ততম বিভিন্ন এলাকায় ওতপেতে থাকে।

টার্গেটকৃত যাত্রী অটোরিকশায় উঠলেই তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ও কৌশলে ছিনতাই করে থাকে। নগরীর সুরমা পয়েন্ট, কোর্ট পয়েন্ট, আম্বরখানা, সুবিদবাজার, টিলাগড়, রেলওয়ে স্টেশন, কদমতলী বাসটার্মিনাল ও কুমারগাঁও বাস টার্মিনাল এলাকায় এই চক্রটি বেশি ওতপেতে থাকে। এরকম চক্রে অটোরিকশা চালকসহ সাধারণত তিন থেকে চার সদস্য থাকে। যারা আগে থেকেই যাত্রীবেশে অটোরিকশায় বসা থাকে। টার্গেটকৃত যাত্রী অটোরিকশায় উঠলে তাকে পেছনের মাঝের সিটে বসতে দেয়। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়। অনেক সময় এরা স্প্রে করে মানুষকে অজ্ঞান করেও সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র লুটে নেয়।

সিএনজি অটোরিকশাকেন্দ্রিক এ অপরাধের ঘটনা শুনেছেন বলে স্বীকার করেছেন সিলেট সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জাকারিয়া। তিনি বলেন, ‘এরকম অপরাধের কথা শোনার পর তার নেতৃত্বে একটি পর্যবেক্ষণ দল গঠন করা হয়েছে। যদি কোনো চালকের বিরুদ্ধে এরকম অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ বলেন, ‘অটোরিকশা কেন্দ্রিক অপরাধের খবর পেলেই পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে অভিযান করে। এরকম অনেক অপরাধীকে ইতোমধ্যে ধরা হয়েছে। এ চক্রের সদস্যদের একটি তালিকা করা হয়েছে। শিগগিরই এ তালিকা ধরে অভিযান চালানো হবে।