সিজদায় যে যে সুন্নত রাসুল (সা.) আদায় করতেন

0
28

ধর্ম ডেস্ক:
সিজদা নামাজের অন্যতম ফরজ। সিজদা আদায় ছাড়া নামাজ হয় না। সিজদা আদায়ের নিয়ম ও পদ্ধতি রয়েছে। সিজদা আদায় করার ক্ষেত্রে কিছু সুন্নতের কথা হাদিসের কিতাবগুলোতে এসেছে; যেগুলো আল্লাহর রাসুল (সা.) করতেন।

এখানে সিজদায় পালনের কিছু সুন্নত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সুন্নতগুলো সবার জেনে রাখা উচিত। এগুলো পালনে নামাজ আরও প্রাণবন্ত ও হৃদয়ার্দ্র হবে।

এক. তাকবির বলা অবস্থায় সিজদায় যাওয়া। (বুখারি শরিফ, হাদিস : ৮০৩)

দুই. প্রথমে উভয় হাঁটু মাটিতে রাখা। (নাসায়ি, হাদিস : ১০৮৯; আবু দাউদ, হাদিস : ৮৩৮)

তিন. তারপর হাঁটু থেকে আনুমানিক এক হাত দূরে উভয় হাত রাখা এবং হাতের আঙুলগুলো কিবলামুখী করে সম্পূর্ণরূপে মিলিয়ে রাখা। (বুখারি শরিফ, হাদিস : ৮২৮; সহিহ ইবনে খুজায়মা, হাদিস : ৬৪২)

চার. নারীরা অত্যন্ত জড়সড় ও সংকুচিত হয়ে সিজদা করবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ২৭৭৭)

পাঁচ. তারপর উভয় বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা বরাবর নাক রাখা। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৮৮৯৪)

ছয়. তারপর কপাল রাখা। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১৮৮৮০)

সাত. অতঃপর দুই হাতের মাঝে সিজদা করা ও দৃষ্টি নাকের অগ্রভাগের দিকে রাখা। (মুসলিম, হাদিস : ৪০১)

আট. সিজদায় পেট ঊরু থেকে পৃথক রাখা। (মুসলিম, হাদিস : ৪৯৬; আবু দাউদ, হাদিস : ৭৩৫)

নয়. নারীরা উভয় রানের সঙ্গে পেট মিলিয়ে রাখবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ২৭৭৭)

দশ. পাঁজরদ্বয় থেকে উভয় বাহু পৃথক রাখবে। (বুখারি, হাদিস : ৮০৭)

এগার. নারীরা বাহুদ্বয় যথাসাধ্য পাঁজরের সঙ্গে মিলিয়ে রাখবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ২৭৮১)

বারো. কনুই মাটি ও হাঁটু থেকে পৃথক রাখবে। (বুখারি, হাদিস : ৮২২)

তের. নারীরা কনুই মাটিতে মিলিয়ে রাখবে এবং পায়ের পাতাগুলো দাঁড়ানো না রেখে (ডান দিকে বের করে) মাটিতে বিছিয়ে রাখবে আর আঙুলগুলো যথাসাধ্য কিবলামুখী রাখবে। (মারাসিলে আবি দাউদ, হাদিস : ৮৭)

চৌদ্দ. সিজদায় কমপক্ষে তিনবার সিজদার তাসবিহ (সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা) পড়া। (আবু দাউদ, হাদিস : ৮৭০)

পনের. তাকবির বলা অবস্থায় সিজদা থেকে ওঠা। (বুখারি, হাদিস : ৮২৫)

ষোল. প্রথমে কপাল, (তারপর নাক) তারপর উভয় হাত, তারপর উভয় হাঁটু ওঠানো। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ২৯৫৮)

বি.দ্র. : দাঁড়ানো অবস্থা থেকে সিজদায় যাওয়ার সময় হাঁটু মাটিতে লাগার আগ পর্যন্ত বুক সম্পূর্ণ সোজা রাখবে। অপারগতা ছাড়া বুক ঝুঁকিয়ে সিজদায় গেলে একাধিক রুকু হয়ে সুন্নতবিরোধী হয়ে যেতে পারে। আর দুই সিজদার মধ্যে সম্পূর্ণ সোজা হয়ে এক তাসবিহ পরিমাণ স্থির হয়ে বসতে হবে। (সাহাবাদের আমল থেকে উদ্ধৃত)