যে ধরণের কথায় মানুষের দুনিয়া ও আখেরাত ধ্বংস হয়

0
28

ইসলাম ডেস্ক:
কথা বলার ক্ষেত্রে সাবধান থাকার বিকল্প নেই। মহান আল্লাহর ব্যাপারে কথা বলার আগে চিন্তাভাবনা করেই কথা বলতে হবে। কারণ এমন কোনো কথা বলা যাবে না; যে কথার কারণে কারো দুনিয়া ও পরকাল ধ্বংস হয়ে যায়।

মহান আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করতে পারবেন। তাঁর ক্ষমা প্রসঙ্গে বিরূপ মন্তব্য করা যাবে না। নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো এমন কোনো কথা বলা যাবে না; যে কথা আল্লাহর উপর হস্তক্ষেপ করা বুঝায়। কথা বলার ক্ষেত্রে হতে হবে সংযত। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে দুনিয়া ও পরকাল ধ্বংস হওয়া সম্পর্কিত বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তাহলো-

১. হজরত জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহ অমুককে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ তাআলা বললেন, কে আমার ওপর বড়াই করে, আমি অমুককে ক্ষমা করবো না? বরং আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তোমার আমলকে নষ্ট করে দিয়েছি।

২. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু অন্য একটি বর্ণনায় উল্লেখে করেছেন, কথাটি যিনি বলেছেন, তিনি ছিলেন একজন ইবাদতগুজার ব্যক্তি। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তিনি এমন একটি কথা বলেছেন, যা তার দুনিয়া ও পরকাল উভয়টিকে ধ্বংস করে দিয়েছে।’ (মুসলিম)

উল্লেখিত হাদিসের আলোকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবানের বিপদ থেকে সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়ে মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করেছেন। ‘আল্লাহ কোনো অপরাধীকে ক্ষমা করবেন না’ কোনো ব্যক্তি শপথ করে এমন কথা বলার ক্ষমতা রাখে না। এমন কথা বললে ওই ব্যক্তির দুনিয়া ও পরকাল বরবাদ হয়ে যাবে।

এমন কথা বলার মর্মার্থ হলো- লোকটি যেন আল্লাহর ওপর ফয়সালা করল এবং তাকে সংকীর্ণ করে দিল। কারণ, সে অন্তরে বিশ্বাস করলো যে, তার জন্যে আল্লাহর সম্মান ও বড়ত্ব রয়েছে, আর ঐ অপরাধীর জন্য রয়েছে অসম্মান। এটিই হচ্ছে আল্লাহকে পথ দেখানো ও তার সাথে বেআদবির করার শামিল। এ কারণেই তার জন্যে দুনিয়া ও পরকালের হতাশা ও ক্ষতি অবধারিত হয়ে গেলো।

সুতরাং মুমিন মুসলমানে উচিত, আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা না বলা। আল্লাহর ক্ষমতা সম্পর্কে এমন কোনো কথা না বলা; যে কথায় তার ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ হয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের দিকনির্দেশনা সম্পর্কিত বিষয় থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। দুনিয়া ও পরকালকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।