যাদের অবদানে আড়ংয়ে চাকরি পাচ্ছেন সেই যুবক!

0
131

নিউজ ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া যুবক ইমরান হোসাইন লিমনকে ঢাকার তেজগাঁও শো-রুমে চাকরি করার প্রস্তাব দিয়েছেন হস্ত ও কারুশিল্প ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আড়ং (ব্র্যাক) কর্তৃপক্ষ। মুখে দাড়ি থাকায় চাকরি না দেয়ার অভিযোগ ওঠেছিলো তাদের বিরুদ্ধে। তবে গণমাধ্যমে লিখিত দু:খ প্রকাশের পর লিমনকে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) চাকরির প্রস্তাব দিয়েছে আড়ং।

বিষয়টি আড়ংয়ের মিডিয়া সেল থেকে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন পাবলিক রিলেশন অফিসার রেদওয়ান আহমদ।


তবে লিমনকে চাকরিতে নেওয়ার ক্ষেত্রে আড়ংয়ের সদিচ্ছা তৈরি হওয়ার পেছনে সিলেটের কিছু তরুণ আলেম ও ধর্মপ্রাণ মানুষের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। তাদের ‘আন্দোলন’র জন্যই আড়ং কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দাঁড়ি থাকায় ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় আড়ংয়ের একটি শো-রুমে চাকরি দেওয়া হয়নি- এমন অভিযোগ তুলে গত শুক্রবার ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করেন ইমরান হোসাইন লিমন নামের এক যুবক। ৮ মিনিটের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরবর্তীতে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

ভিডিওতে লিমন বলেন- ‘‘সম্প্রতি আমি আমি আড়ং, সেইলর, জেন্টেল পার্কসহ বেশ কয়েকটি শো-রুমে সেলসম্যান পদের জন্য সিভি ড্রপ করি। শুক্রবার আমাকে আড়ংয়ের ইন্টারভিউর জন্য তেজগাঁওয়ে ডাকা হয়। ইন্টারভিউর সময় আমি মাস্ক পরা ছিলাম। সেখানে যারা ছিলেন, আমি তাদের সব প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে দিয়েছি। ইন্টারভিউর শেষ পর্যায়ে তাদের কথা ও ভঙ্গি দেখে মনে হয়েছে তারা আমাকে নিয়ে নেবেন, তারা আমার কথায় সন্তুষ্ট।

কিন্তু কথা শেষ করে চলে যাওয়ার সময় তারা আমাকে দাঁড়াতে বলেন। তারা হয়তো আমার মাস্কের পাশ দিয়ে গালে দাড়ি দেখতে পান। আমাকে তারা বললেন, ‘মাস্কটা খোলো।’ আমি মাস্ক খুলতেই তারা বললেন, ‘উই আর ট্রুলি স্যরি (আমরা সত্যিই দুঃখিত)।’ আমি বললাম, ‘কেন, কী হয়েছে?’ উনারা বললেন, ‘আপনাকে আমরা কনফার্ম করতে পারছি না। আপনি যদি দাড়িটা ক্লিন শেভ করতে পারেন তাহলে আপনার জবটা আমরা এখানে কনফার্ম করলাম ইনশাআল্লাহ।’

লিমন বলেন, আড়ংয়ের লোকজন আমাকে বলেন, ‘আমাদের আড়ংয়ের রুলস হচ্ছে সেলসম্যানের জব করতে হলে আপনাকে ক্লিন শেভ করতে হবে।’ তাদের এ কথা শুনে আমি হতভম্ব। আমি ফিরে আসার সময় আমি তাদেরকে বলি, তাহলে আমি এই জবটা করবো না। আমি একথা বলে চলে আসছিলাম। তবে আমি আবারও তাদের কাছে ফিরে যাই। তাদেরকে বলি যে, আমি খুবই নিডি (অভাবগ্রস্ত)। আমাকে কি কোনোভাবে চাকরিটা দেয়া যায়? তারা বলে, ‘না এটা আড়ংয়ের রুলসে নাই।’