মোবাইল ইন্টারনেটে মেয়াদহীন প্যাকেজ, কীভাবে কিনবেন, কত দাম?

0
30

নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন আজ বৃহস্পতিবার থেকেই দেশে মোবাইল অপারেটরগুলোর আনলিমিডেট (মেয়াদবিহীন) ডেটা এবং নিরবচ্ছিন্ন মাসিক ইন্টারনেট প্যাকেজ চালুর ঘোষণা দিয়েছে।

এ ঘোষণার পরপরই অপারেটরদের মোবাইল অ্যাপগুলোতে এ ধরণের প্যাকেজ অফার দেখা যাচ্ছে।

তবে বিটিআরসি নিজেই বলেছে যে এ প্যাকেজগুলো নামকরণে আনলিমিটেড বা মেয়াদবিহীন বলা হলেও কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে এর সর্বোচ্চ মেয়াদকাল হবে এক বছর।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে বলেছেন, এটি বাংলাদেশের মোবাইল ফোন গ্রাহকদের জন্য ‘ঈদ উপহার’।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে গ্রাহকদের ডেটা ব্যবহারের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে এবং ২/৪/১০ দিনের মেয়াদ বা এক বছরের মেয়াদ দেয়া এক বিষয় নয়।

বর্তমানে প্রচলিত মাসিক প্যাকেজ নিরবচ্ছিন্ন নয়, ফলে ডেটা শেষ হয়ে গেলে মাসের অবশিষ্ট দিনে নতুন প্যাকেজ না কিনলে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় না।

কী আছে মেয়াদবিহীন বা আনলিমিটেড প্যাকেজে
বিটিআরসির কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ অনুষ্ঠানে নতুন প্যাকেজগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, মেয়াদহীন ডেটার প্যাকেজের ক্ষেত্রে গ্রামীণফোন ১৫ জিবি ১০৯৯ টাকায় ও ৫ জিবি ৪৪৯ টাকা, রবি ১০ জিবি ৩১৯ টাকায়, বাংলা লিংক ৫ জিবি ৩০৬ টাকায় এবং টেলিটক ২৬ জিবি ৩০৯ টাকা ও ৬ জিবি ১২৭ টাকায় প্যাকেজ দেয়া শুরু করেছে।

এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন মাসিক ইন্টারনেট প্যাকেজের ক্ষেত্রে গ্রামীণ ফোন দুটি প্যাকেজ চালু করেছে। এর একটি ৩৯৯ টাকায় ৩০ দিন নিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১ জিবি ব্যবহার করা যাবে আর ৬৪৯ টাকা ৩০ দিন নিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ জিবি ব্যবহার করা যাবে।

অন্য অপারেটররা পর্যায়ক্রমে এটি চালু করবে বলে জানান তিনি। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী গত ১৫ই মার্চ মোবাইল অপারেটরদের এ ধরণের প্যাকেজ চালুর অনুরোধ করেন।

পরে ২৭শে মার্চ বিটিআরসির সভায় মোবাইল অপারেটরদের ৩১ শে মার্চের মধ্যে ভলিউম ভিত্তিক ডেটা প্যাকেজ ও সীমাবিহীন ভলিউমের মাসিক ডেটা প্যাকেজ চালুর অনুরোধ করার সিদ্ধান্ত হলেও পরে সেটি ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

তবে নতুন চালু হওয়া প্যাকেজগুলো বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহার করা যাবে না। এগুলো শুধু মাত্র মানুষের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।

মেয়াদহীন প্যাকেজ না থাকায় যে অসুবিধা হচ্ছিলো:
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ অনুষ্ঠানে জানান, দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা এখন ১২ কোটি ৩৮ লাখ ২০ হাজার।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে গত ছয় বছরে ইন্টারনেট ব্যান্ড উইথ বৃদ্ধির হার ১২১৮%।

আবার মোবাইল ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে গ্রাহক প্রতি মাসে গড়ে ২ জিবি ডেটা ব্যবহার করতো ২০১৯ সালে। ডেটা প্যাকেজ মেয়াদযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ২০২১ সালে সেটা বেড়ে ৪ দশমিক ৩ জিবি হয়েছে।

সামনে আরও যেসব প্যাকেজ আসবে
বিটিআরসি জানিয়েছে, গ্রামীণফোন এক বছরের আর রবি ও বাংলালিংক ৩০ দিনের প্যাকেজ নিয়ে আসবে শিগগিরই। এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান টেলিটক দিনে সর্বোচ্চ ১/২/৩/৫ জিবি ব্যবহারের জন্য নিরবচ্ছিন্ন মাসিক ইন্টারনেট প্যাকেজ নিয়ে আসবে।

নতুন মাসিক ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যবহার করে একজন গ্রাহক নিরবচ্ছিন্নভাবে সারা মাস দৈনিক নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার ডেটা ব্যবহার করতে পারবে।

একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে সারামাস নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে। ফলে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে না ও এ নিয়ে মানসিক অস্বস্তিতে থাকতে হবে না মন্তব্য করেছেন মি. পারভেজ।

মোবাইল অপারেটররা প্রতিটি ডেটা প্যাকেজ একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির গ্রাহকদের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে ডিজাইন করে থাকে।

বিভিন্ন ধরনের গ্রাহকদের জন্য অপারেটররা সর্বোচ্চ ৯৫টি ডিজাইন করতে পারবে। তবে বৃহস্পতিবার চালু হওয়া বিশেষ ডেটা প্যাকেজগুলোও এর মধ্যেই থাকবে।

নতুন প্যাকেজের বৈশিষ্ট্য ও শর্ত
১. এটি হবে বিশেষ প্যাকেজ
২. এতে অন্য কোন অফার দেয়া যাবে না
৩. এ প্যাকেজগুলা নামকরণে আনলিমিটেড বা মেয়াদবিহীন হলেও কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে এর সর্বোচ্চ মেয়াদকাল হবে ১ বছর
৪. ডেটা ক্যারিফরওয়ার্ড প্রযোজ্য হবেনা