‘বেকার পড়ে আছে’ কোটি টাকার অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স!

0
57

নিউজ ডেস্ক:
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলেই চোখ পড়ে জরুরি বিভাগের প্রবেশপথের পাশে। সেখানে খোলা আকাশের নিচে পাশাপাশি রাখা হয়েছে আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র) সুবিধা–সংবলিত বিশেষায়িত তিনটি অ্যাম্বুলেন্স। এর মধ্যে দুটি বাংলাদেশ-ভারতের পতাকাসংবলিত। সে দুটিতে লেখা- ‘ফরম দ্য পিপল অব ইন্ডিয়া টু দ্য পিপল অব বাংলাদেশ’। এর পাশেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া আরেকটি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি। তিনটি অ্যাম্বুলেন্সেরই বসার আসনগুলো পলিথিন দিয়ে মোড়ানো। দেখে বুঝাই যায়- এগুলো অব্যবহৃত ও নতুন। বিষয়টিও এমন।

ভারত থেকে পাওয়া উপহারে অ্যাম্বুলেন্স দুটি একদিনও ব্যবহার করা হয়নি। আর ২০২০ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি সিলেট থেকে রোগী নিয়ে ঢাকায় গেছে মাত্র দুই বার। এ ছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে প্রটোকলে অংশ নিয়েছিলো এই অ্যাম্বুলেন্স।

জানা গেছে, লোকবল সংকটের জন্য অত্যাধুনিক আর দামি অ্যাম্বুলেন্স ৩টি পড়ে আছে অব্যবহৃত। আর অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ওসমানী হাসপাতালের আলাদা রাখার জায়গা বা গ্যারেজ নেই বলে এভাবে পড়ে আছে খোলা আকাশের নিচে। অ্যাম্বুলেন্সগুলো এমন অবস্থায় থাকলেও এগুলোর ব্যবহারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ২০২০ সালের অক্টোবরে একটি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছিল। আর গত বছর ভারতের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে দুটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের কাছে ওই অ্যাম্বুলেন্স দুটির চাবি হস্তান্তর করেছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। অ্যাম্বলেন্সগুলো শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি)। ভেতরে উন্নত প্রযুক্তির পালস অক্সিমিটার, ইসিজি মেশিন, সিরিঞ্জ পাম্প, ভেন্টিলেটর মেশিন, সাকার মেশিন, মনিটর, অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রয়েছে। কিন্তু লোকবলের অভাবে এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে না।

এ বিষয়ে হাসপতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য- এই ৩টি বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা চিকিৎসক ও নার্স রাখার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তাছাড়া এগুলো সুরক্ষিতভাবে রাখতে গ্যারেজের প্রয়োজন। তা নেই ওসমানী হাসপাতালে। আর নতুন করে গ্যারেজ তৈরির জন্য বর্তমানে হাসপাতালে কোনো বরাদ্দ নেই।

জানা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মচারীরা বিভিন্ন শিফটে কোটি টাকা দামের এই অ্যাম্বলেন্সগুলোর নজরদারি করেন। ওসমানী হাসপাতালের নিজস্ব পার্কিং নেই। গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহৃত হয় তিনটি কক্ষ। সেখানে কর্মকর্তাদের গাড়ি রাখা হয়। অ্যাম্বুলেন্স রাখার গ্যারেজ না থাকায় খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়েছে রোগী বহনের দামি গাড়িগুলো।

এদিকে, আইসিইউ সুবিধাসংবলিত ৩টি অ্যাম্বুলেন্স সিলেটে আছে- এমন খবর অনেকেই জানেন না। অথচ আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় রোগী বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চাইতে খরচ ৫ গুণ কম হয়ে থাকে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আগে বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্সগুলো পরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ করা ছিল না। তবে কিছুদিন আগে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে রোগী পরিবহনের জন্য কিলোমিটারে ১০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। বেসরকারি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে সিলেট থেকে ঢাকায় রোগী নিয়ে যেতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ভাড়া হলেও সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে সেটি পাঁচ হাজার টাকার মতো। কিন্তু এত সুবিধা থাকার পরও ফেলে রাখা হয়েছে অ্যাম্বলেন্সগুলো।

ওসমানী হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনা কমিটির সদস্য ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ এ বিষয়ে বলেন, বিশেষায়িত ৩টি অ্যাম্বুলেন্সের প্রতিটি পরিচালনার জন্য দুজন চালকের পাশাপাশি একজন চিকিৎসক ও নার্স দরকার হয়। লোকবল না পাওয়ায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

খোলা আকাশের নিচে রাখার বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের জন্য হাসপাতালের আলাদা নির্ধারিত কোনো গ্যারেজ নেই। আর নতুন করে গ্যারেজ নির্মাণ হাসপাতালের ক্ষমতাধীন নয়। নির্মাণকাজ কিংবা বরাদ্দ আসে গণপূর্ত অধিদপ্তরে। গ্যারেজ নির্মাণ করবে গণপূর্ত অধিদপ্তর। গণপূর্তকে এ ব্যাপারে কয়েক দফা লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও বরাদ্দ আসেনি।