বিস্ফোরণের পরেই লঞ্চে আগুন ছড়িয়ে পড়ে

0
107

নিউজ ডেস্ক:
ঝালকাঠির লঞ্চের আগ্নিকাণ্ডে বেচে যাওয়া যাত্রী ও লঞ্চের মালিকের কাছ থেকে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের কিছুটা ধারণা পাওয়া গেছে৷

লঞ্চের কেরানী আনোয়ার রাত ৩টার ৫মিনিটে লঞ্চ মালিক হাম জালালকে ফোন করে আগুন লাগার খবর দেন বলে তিনি শুক্রবার জানিয়েছেন৷

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৩৬ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে৷ দগ্ধ হয়েছেন বহু যাত্রী৷ নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷

লঞ্চ মালিক বলেন, ‘‘সে বলেছে দোতলায় একটা বিস্ফোরণ হয়, সঙ্গে সঙ্গে কেবিনে আর লঞ্চের পেছনের বিভিন্ন অংশে আগুন দেখা যায়৷ তারপর তৃতীয় তলার কেবিন ও নিচতলায় ছড়িয়ে পড়ে আগুন৷” ওই লঞ্চে অন্তত ২১টি অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ছিল এবং এত দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়া সময় পাওয়া পায়নি বলে জানান লঞ্চ মালিক৷ তিনি বলেন, ‘‘একটি পাইপ গেছে ইঞ্জিন থেকে, সেখানে প্রথম বিস্ফোরণ হয় বলে আনোয়ার আমাকে জানিয়েছে ৷”

হাম জালাল এম ভি অভিযান-১০, ৩ ও ৫ লঞ্চের মালিক, তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান তিনি৷

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেছেন, লঞ্চের ইঞ্জিনরুমের অংশটি বেশি পুড়েছে৷ সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন৷

অগ্নিকান্ডে লঞ্চের বেঁচে যাওয়া যাত্রী আব্দুর রহিম জানান, রাতে ডেক থেকে তিনি হঠাৎ বিকট শব্দ পান৷ তারপর লঞ্চের পেছন দিক থেকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে দেখেন ৷ অল্প সময়ের মধ্যে আগুন পুরো লঞ্চ গ্রাস করে ফেলে৷ আতঙ্কিত হয়ে তিনি ডেক থেকে নদীতে লাফিয়ে পড়েন৷

নদীর পাশের দিয়াকুল গ্রামের লোকজন নৌকা নিয়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছিলেন ৷ তারাই রহিমকে উদ্ধার করে গরম কাপড় দেন৷ পরে সকালে তাকে ট্রলারে করে ঝলাকাঠি শহরে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি৷