প্রবাসী সেই বাংলাদেশির কাছে ক্ষমা চাইলেন মিশিগানের বিচারক

0
63

নিউজ ডেস্ক:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার পর অবশেষে ৭২ বছর বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশি বোরহান চৌধুরীর কাছে ক্ষমা চাইলেন ‍যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক আলেক্সিজ জি ক্রোট। উঠোনের ঘাস পরিষ্কার না করায় ক্যান্সারে আক্রান্ত ওই প্রবীণ বাংলাদেশিকে ভর্ৎসনা করেছিলেন বিচারক।

এক বিবৃতিতে প্রবাসী বাংলাদেশি বোরহান চৌধুরীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন মিশিগানের জেলা জজ আলেক্সিজ জি ক্রোট।

বিবৃতিতে ওই বিচারক বলেছেন, ‘আমি ভুল করেছি। আমি নির্দয় আচরণ করেছি। যা করেছি তার জন্যে আমি লজ্জিত, দুঃখিত এবং বিব্রত।’

জানা গেছে, মিশিগানের হ্যামট্রাম্যাকের বাসিন্দা বোরহান চৌধুরীর বাড়ির উঠোনের ঘাস বড় হয়ে জঙ্গলের মতো হয়েছিল। ঘাস পরিস্কার না করায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন প্রতিবেশীরা।

এ বিষয়ে ভার্চুয়াল শুনানিতে বিচারক আলেক্সিস জি ক্রোট বলেছিলেন, আগাছা পরিষ্কার করতে না পারার জন্যে বোরহান চৌধুরীর লজ্জিত হওয়া উচিত। আদালতে বোরহান চৌধুরী তার শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে ঘাস কাটতে না পারার কারণ ব্যাখ্যা করেন। কিন্তু বিচারক তার কথা আমলে না নিয়ে বলেন, ‘জেল দেওয়ার সুযোগ থাকলে আমি আপনাকে তাই দিতাম।’

পরে এ নিয়ে গত ১০ জানুয়ারি ভার্চুয়াল আদালতে বিচারকের ওই মন্তব্য নিয়ে ১২ জানুয়ারি ওয়াশিংটন পোস্টে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হৈ চৈ শুরু হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সোয়া দুই লাখের বেশি আমেরিকান ওই বিচারকের অপসারণ দাবিতে একটি পিটিশনে সই করেন।

এই প্রেক্ষাপটে গত ১৮ জানুয়ারি বিচারক ক্রোট তার বিবৃতিতে বলেন, আমি তার (বোরহান চৌধুরী) কাছে ক্ষমা চাইছি। তার সাথে যে ধরনের সৌজন্য দেখানো উচিত ছিল তা করতে না পারায় গোটা কমিউনিটির কাছে ক্ষমা চাইছি। আশা করছি বিচার বিভাগীয় সকলেই বিষয়টি উপলব্ধিতে সক্ষম হবেন।

ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছেন এই বিচারক।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশি বোরহান চৌধুরীর পৈত্রিক নিবাস সিলেটে। অভিবাসী মর্যাদায় ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ২০১৪ সাল থেকে তিনি মিশিগানে বসবাস করছেন। পরে ডেট্রয়েট সিটি থেকে ৬ মাইল দূর হ্যামট্রমিক সিটির ওই বাড়িটি তিনি কেনেন ২০১৬ সালে। স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে তিনি সেখানেই বসবাস করে আসছেন।

২০১৯ সালে বোরহান চৌধুরীর ক্যান্সার ধরা পড়লে পুরো পরিবারই সংকটে পড়ে। ক্যান্সারের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপেও ভুগছেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত ওই আচরণের জন্য বিচারক ক্ষমা প্রার্থনা করায় সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বোরহান চৌধুরীর ছেলে শিব্বির চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘ক্যান্সারে আক্রান্ত ৭২ বছর বয়সী একজন মানুষের সাথে নির্দয় আচরণের নিন্দা, প্রতিবাদে যারা সরব হয়েছেন তারা মানবিকতার সর্বোচ্চ দায়িত্বটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সকলেই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন যে, এমন পরিস্থিতির শিকার যে কেউ যে কোনো সময় হতে পারেন। জটিল রোগে আক্রান্তরা এই সমাজে অবহেলিত নন, অবজ্ঞার পাত্র তারা হতে পারেন না- এই বার্তাটিই তারা দিয়েছেন।