পর্যটক নেই সিলেটে

0
44

নিউজ ডেস্ক:
প্রতিবছর ঈদ বা অন্যান্য ছুটির দিনে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে যেত। কিন্তু সিলেটে আঘাত হানা দুই দফায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এ খাত। তবে এবারের পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে এ খাতের ক্ষতি পুষিয়ে উঠার আশা করেছিলেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত ছিলো সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। সবকিছু ঠিক থাকলেও সিলেটের পর্যটক আসেন নি প্রত্যাশিত ভাবে। ফলে এ খাত সংশ্লিষ্টরা হতাশ হয়েছেন। ফলে আরেক দফায় বড় ধাক্কা খেয়েছে এ খাত। এমন পরিস্থিতি হতাশা রয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় জড়িত ব্যবসায়ীরা।

মূলত বর্ষাকাল সিলেটে পর্যটনের ভরা মৌসুম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিলেটের পর্যটন একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছে। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় দুই বছর পর্যটন খাত মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল। এরপর গত ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে ওঠে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র। কিন্তু সেবার অব্যবস্থাপনার কারণে ঘটে নেতিবাচক ঘটনা। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ে কয়েকজন পর্যটককে মারধর করেন স্বেচ্ছাসেবকরা। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা হয়। সিলেটের পর্যটন ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য এ ঘটনা ছিল বড় ধাক্কা।

গত ঈদের এই ঘটনার পর সিলেটে কমতে থাকে পর্যটক। এরপর আসে দুই দফা বন্যার ধাক্কা। গত মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে প্রায় ১০ দিনব্যাপী ছিল প্রথম দফার বন্যা। এরপর গত জুন মাসের ১৪ তারিখ থেকে ফের বন্যায় ডুবে সিলেট। দুই দফার ভয়াবহ বন্যায় সিলেটের সকল পর্যটনকেন্দ্র ছিল বন্ধ। দেশ-বিদেশের প্রায় কোনো পর্যটক এসময়ে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে সিলেটে আসেননি। ফলে পর্যটন খাতের ব্যবসায়ী ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় নির্ভর করে জীবিকা চালানো লোকজন বিপাকে পড়েন।

পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যার কারণে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে যাওয়া–আসার পথগুলোও পানিতে তলিয়ে যায়। এতে বিপাকে পড়েন পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তাদের ধারণা ছিল পর্যটনকেন্দ্রে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সিলেটে আসবেন। কিন্তু তাদের ধারণা হতাশ করেছেন পর্যটকরা।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ফটোগ্রাফার সোসাইটির সভাপতি ফখর উদ্দিন বলেন, ‘বন্যায় পর্যটন খাতের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে পানি কমেছে, কিন্তু পর্যটকের দেখা নেই। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে হাতেগোনা পর্যটকের দেখা যায়। ফলে আমরা অনেকটাই বেকার। তবে ঈদে পর্যটকদের ঢল নামার আশা করছিলাম। কিন্তু প্রত্যাশিতভাবে পর্যটক আসেন নাই। ফলে আমরা আরেক বার ধাক্কা খেয়েছি।’

সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি এটিএম সোয়েব বলেন, ‘আমাদের হোটেল-মোটেল অন্যান্য বছর হাউস ফুল থাকলেও এবার উল্লেখযোগ্য বুকিং নেই। আমার মনে হয় মানুষ বন্যার কারণে সিলেটে না এসে পদ্মা পাড়ি দিয়ে কুয়াকাটাসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে আমরা হতাশ। বন্যার কারণে সিলেটের পর্যটন শিল্প বিপর্যস্ত।’

 

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘বন্যায় বিপর্যস্ত ছিলো সিলেট। বর্তমানে বন্যার উন্নতি হয়েছে। বিভিন্ন ভাবে প্রচার প্রচারণা হয়েছিল। কিন্তু পর্যটক প্রত্যাশিত ভাবে আসেন নি। হয়তো একটু সময় লাগবে এ খাতের ক্ষতি উঠিয়ে নিতে।’