দেখতে নয়ন জুড়ালেও বোরো ধানের ভেতরে চিটা

0
64

নিউজ ডেস্ক:
মৌলভীবাজারের হাওর অঞ্চলের মানুষের একমাত্র উৎপাদিত ফসল বোরো ধান। এর ওপর নির্ভর করেই চলে এখানকার মানুষের জবীন-সংসার। ধানের টাকায় মেটান ধার-দেনাও। কিন্তু চলতি মৌসুমে বোরো চাষে দীর্ঘ মেয়াদী খরা ও পানি সেচের সুবিধা না থাকায় রোপণ করা ব্রি-২৮ জাতের ধানে চিটা ধরেছে। ফলে লোকসান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাওরপাড়ের কয়েক হাজার প্রান্তিক ও বর্গাচাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ বছর বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৬ হাজার ৮০০ হেক্টর। চাষাবাদ হয়েছে ৫৭ হাজার ৫৭০ হেক্টর। এর মধ্যে ব্রি-২৮ জাতীয় আগাম ধান চাষবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৯২৫ হেক্টর জমিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছর হাওরে ব্রি-২৮ চাষে প্রতি বিঘাতে ১৫ থেকে ২০ মণ ধান পেয়েছেন কৃষকরা। এ বছর চিটা ধরার প্রতি বিঘাতে ৪ থেকে ৫ মণ ধান পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা তাদের।

হাওর কাউয়াদীঘির পূর্ব পাড়ের বাগেশ্বর গ্রামের বর্গাচাষি শাহআলম মিয়া বলেন, দূর থেকে ক্ষেতের মাঠ দেখে নয়ন জুড়ালেও ভেতরের জমির ধানে প্রচুর চিটা ধরেছে। আমরা অনেক লোকসানে পড়েছি। গত বছর ২ বিঘা জমিতে ৪০ মণ ধান পেয়েছিলাম। এবার ১০ মণ ধান পেতে পারি।

কথা হয় জালালপুর গ্রামের মজর মিয়া, শমসু মিয়া, মগলা মিয়ার সঙ্গে। তারা বলেন, এ বছর খরার কারণে পানির অভাবে ধানে চিটা ধরেছে। ফলে অনেক জমির ধান কাটার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আবার যেসব জমিতে ধান হয়েছে তার উৎপাদন অনেক কম।

অরেক চাষি ছালিক মিয়া বলেন, সময় মতো বৃষ্টি না হওয়াতে এবং নদী ও খাল শুষ্ক থাকায় জমিতে পানি দিতে পারিনি। তাই আমার ১৮ বিঘি জমিতে ব্রি-২৯ জাতের ধানি জমি নষ্ট হয়েছে।

হাকালুকি হাওরপাড়ের ভুকশিমইল ইউনিয়নের কৃষক সাইফুল ও কাদির মিয়া বলেন, খরার কারণে এ বছর হাওরে ব্রি-২৮ জাতের ধানে চিটা ধরেছে। পানির অভাবে অর্ধেক ধানে চিটা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। বোরো চাষাবাদ করে এবার বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

মৌলভীবাজার কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী বলেন, খরার কারণে কিছু কিছু এলাকার জমিতে ধানে চিটা ধরেছে। এটা আমাদের চোখে পড়েছে। এ চিত্র সবসময়ই থাকে। তবে গত দুদিনের বৃষ্টিতে দেরিতে লাগানো ফসলের উপকার হচ্ছে। এতে কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে বলে আশা করা যাচ্ছে ।