জেনে নিন যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশকের বিশেষ আমল

0
49
জেনে-নিন-যিলহজ্ব-মাসের-প্রথম-দশকের-বিশেষ-আমল.
যিলহজ্বের মাসের প্রথম দশকের বিশেষ আমল : আমাদের করণীয়

ফাহাদ মারুফ: যিলহজ্বের প্রথম দশকের বিশেষ আমল : আমাদের করণীয়.
আজ ২৯শে যিলক্বদ। যিলহজ্বের চাঁদ উঠবে আজ। আসুন আমরা এই বরকতপূর্ণ সময়কে যথাযথ ভাবে কাজে লাগানোর জন্য মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করি।

যিলহজ্বের প্রথম দশক : আমাদের করণীয়

যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের বিশেষ ফজিলত ও অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।
তাই আসুন, হাদীসের আলোকে এ দিনগুলোতে আমাদের করণীয় সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে নিই,
এক. অধিক পরিমাণে আমলে সালেহ তথা নেক আমল করা। কেননা এ দিনগুলোতে যে নেক আমল করা হয় তা আল্লাহ তাআলার নিকট অন্য যে কোন দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয়।
যিকির, কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, নফল রোজা সবই এর অন্তর্ভুক্ত।
এরশাদ হয়েছে:
ما من أيام العمل الصالح فيها أحب إلى الله من هذه الأيام يعني أيام العشر، قالوا: يا رسول الله، و لا الجهاد في سبيل الله؟ قال: و لا الجهاد في سبيل الله، إلا رجل خرج بنفسه و ماله، فلم يرجع من ذلك بشيء.
অর্থাৎ, আল্লাহর নিকট যিলহজ্বের প্রথম দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্যকোন দিনের আমল নেই। সাহবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও এ দিনের আমলের চেয়ে উত্তম নয়? তিনি বললেন, না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও এরচেয়ে উত্তম নয়। তবে সে ব্যক্তির কথা ভিন্ন যে নিজের জান মাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে বের হয়েছে অতপর কোন কিছুই নিয়ে ফিরতে পারে নি। (শাহাদাত বরণ করেছেন)
বুখারী, হাদীস নং, (৯৬৯)
দুই. বিশেষত , লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ও আলহামদুলিল্লাহ -এর যিকির বেশি বেশি করা।
আল্লাহর নবী এরশাদ করেন,
ما من أيام أعظم عند الله، و لا أحب إلى الله العمل فيهن من هذه الأيام العشر، فأكثروا فيهن من التهليل و التكبير و التحميد.
অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলার নিকট যিলহজ্বের প্রথম দশকের আমলের চেয়ে অধিক মহৎ ও প্রিয় আমল আর নেই। সুতরাং তোমরা এ দিনগুলোতে বেশি বেশি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” “আল্লাহু আকবার” ও “আলহামদুলিল্লাহ” পড়।
মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং, (৫৪৪৬)
তিন. যিলহজ্বের চাঁদ উঠার পর থেকে কুরবানীর দিন পর্যন্ত শরীরের কোন প্রকার নক বা চুল না কাটা।
এ বিষয়ে বর্ণিত সকল হদীস, এবং সাহাবা, তাবেঈনের আমল থেকে প্রতিয়মান হয় যে, যারা কুরবানী করবেন এবং যারা সামর্থ্যের অভাবে কুরবানী করবেন না সকলের জন্যই এ আমল। তবে যে ব্যক্তি কুরবানী করবে তার জন্য এ আমলটি তুলনামূলক অত্যাধিক গুরুত্ব রাখে।
আল্লাহর নবী এরশাদ করেন,
إذا رأيتم هلال ذي الحجة، و أراد أحدكم أن يضحي ، فليمسك عن شعره و أظفاره.
অর্থাৎ, যখন তোমরা যিলহজ্বের চাঁদ দেখতে পাও, এবং তোমাদের কেউ কুরবানী করতে চায় সে যেন তার চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।
মুসলিম, হাদীস নং, (১৯৭৭)
অন্যত্র এরশাদ হয়েছে,
أن رسول الله- صلى الله عليه وسلم – قال لرجل: أمرت بيوم الأضحى عيدا جعله الله- عز و جل- لهذه الأمة، فقال الرجل: أرأيت إن لم أجد إلا منيحة أنثى، أفأضحي بها؟ قال: ولكن تأخذ من شعرك و تقلم أظفارك و تقص شاربك، و تحلق عانتك، فذلك تمام أضحيتك عند الله- عز وجل-
অর্থ, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে বললেন, আমাকে কুরবানীর দিবসে ঈদ পালনের আদেশ করা হয়েছে। যা আল্লাহ এ উম্মতের জন্য নির্ধারণ করেছেন।
লোকটি আরজ করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! যদি আমার কাছে শুধু একটি মানীহা থাকে (অর্থাৎ, অন্যের থেকে নেওয়া দুগ্ধ দান কারি উঠনী) আমি কি তা দিয়ে কুরবানী করব? নবীজী বললেন, না, তবে তুমি নখ, চুল ও মোঁচ কাটবে এবং নাভির নীচের পশম পরিস্কার করবে। এটাই আল্লাহর দরবারে তোমার পূর্ণ কোরবানি বলে গণ্য হবে।
সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং, (৭৭৩, ৫৯১৪)
এমনকি সাহবা তাবেঈন শিশুদের চুল নখও এ দিনগুলোতে কাটা পছন্দ করতেন না।
إن ابن عمر مر بامرأة تأخذ من شعر ابنها في الأيام العشر، فقال: لو أخرتيه إلى يوم النحر كان أحسن.
অর্থাৎ, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযি.) এক মহিলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। মহিলাটি যিলহজ্বের দশকে ছেলের চুল কেটে দিচ্ছিল। তখন তিনি বললেন, সে যদি কুরবানীর দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করত অনেক ভালো হতো!
মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং, (৭৫৯৫)
চার. সম্ভব হলে যিলহজ্বের প্রথম তারিখ থেকে নয় তারিখ পর্যন্ত রোজা রাখা। বা এরমধ্যে যে কয়দিন সম্ভব হয় রোজা রাখা।
তবে নয় তারিখ অর্থাৎ, ঈদের আগের দিন অবশ্যই রোজা রাখার চেষ্টা করা। কেননা এই এক দিনের রোজার ফলে এক বছর আগের ও এক বছর পরের মোট দুই বছরের গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।
আল্লাহর নবী এরশাদ করেন,
صيام يوم عرفة، أحتسب على الله أن يكفر السنة التي قبله و السنة التي بعده!
অর্থ, আমি আশা করি আরাফার দিন অর্থাৎ যিলহজ্বের নয় তারিখের রোজার ফলে আল্লাহ তাআলা এক বছর আগের ও এক বছর পরের গোনাহ মাফ করে দিবেন।
সহীহ মুসলিম, হাদীস নং (১১৬২)
যিলহজ্বের প্রথম নয় দিন রোজা রাখার বিষয়ে একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যে গুলো সনদের বিচারে যঈফ তথা দুর্বল হলেও মুহাদ্দিসগণ এ গুলোকে সমষ্টিগতভাবে আমলযোগ্য বলেছেন। দেখুন, ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী লিখিত বিখ্যাত গ্রন্থ “লাতায়িফুল মা’আরিফ” (পৃ. ৩৫২-৩৫৩ )
পাঁচ. যিলহজ্বের নয় তারিখ ফজরের নামাজের পর থেকে তের তারিখ আসরের নামাজ পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজের পর পুরুষদের জন্য উচ্চস্বরে আর মহিলাদের জন্য নিম্নস্বরে তাকবীরে তাশরীক পড়া ওয়াজিব।
পুরুষরা ঈদের নামাজে যাওয়ার সময়ও উচস্বরে তাকবীরে তাশরীক পাঠ করবে।
তাকবীরে তাশরীকের জন্য বিভিন্ন শব্দ হাদীস শরীফে উল্লেখিত হয়েছে। তার মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বজনবিদিত পাঠ হলো এই,
الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله، و الله إكبر، الله أكبر، و لله الحمد.
মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, হাদীস নং (৫৬৯৬-৫৬৯৯)
সুনানু ইবনিল মুনযির (৪/৩৪৯)
ছয়. কুরবানী করা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ,
من وجد سعة لأن يضحي ولم يضح فلا يقربن مصلانا
অর্থাৎ, যে ব্যক্তির কুরবানী করার সামর্থ্য আছে কিন্তু কুরবানী করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে উপস্থিত না হয়।
মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস নং ( ৭৬৩৯)
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আমল করার তাওফীক দান করুন।