চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, অতঃপর!

0
74

নিউজ ডেস্ক:
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় মায়ের কাছে ছুটে যাওয়ায় মো. ইয়াসিন ফরহাদ (৮) নামে এক ছাত্রকে অমানুষিকভাবে বেদম পিটিয়েছে এক মাদ্রাসাশিক্ষক।

ওই শিক্ষার্থীর ওপর শিক্ষকের অমানুষিকভাবে বেদম প্রহারের একটি ৩৩ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।

এদিকে এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে হাটহাজারী পৌরসভার ফটিকা গ্রামের মারকাজুল কোরআন ইসলামিক একাডেমিতে অভিযান চালিয়ে ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মো. ইয়াহইয়াকে আটক করে পুলিশ।

তবে ওই শিক্ষার্থীর বাবা-মা অভিযুক্ত ওই মাদ্রাসাশিক্ষককে ক্ষমা করে দিয়েছেন মর্মে একটি লিখিত বক্তব্য দেওয়ায় প্রশাসন এ ঘটনায় দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি।

এর আগে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে মায়ের পেছনে ছুটে যাওয়ার কারণে ওই শিক্ষক অমানুষিকভাবে হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন ফরহাদকে প্রহার করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে শিক্ষার্থী ইয়াসিন ফরহাদকে দেখতে যায় তার মা পারভিন আক্তার। দেখা শেষে ফিরে আসার সময় ইয়াসিন ফরহাদ তার মায়ের পেছন পেছন ছুটে আসে। এ সময় হেফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মো. ইয়াহইয়া তাকে ধরে এনে বেদম প্রহার করে।

এদিকে ওই শিক্ষার্থীর ওপর শিক্ষকের অমানুষিকভাবে বেদম প্রহারের একটি ৩৩ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তাকে নির্মমভাবে প্রহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকেই। তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে একাডেমিপ্রধানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে বিষয়টি অবহিত হয়ে ওই মাদ্রাসায় রাত ১টার দিকে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অভিযান চালায় হাটহাজারী উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) রুহুল আমীন। এ সময় মাদ্রাসা থেকে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়।

এ ব্যাপারে ইউএনও রুহুল আমীন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ওই মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষার্থী ইয়াসিন ফরহাদকে উদ্ধার করি এবং অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে পুলিশি হেফাজতে নিই। এ সময় ইয়াসিন ফরহদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার ব্যাপারে পুরোপুরি অবগত হই।

তবে ওই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব; ঠিক এ সময় শিক্ষার্থীর বাবা-মা এসে কান্নাকাটি শুরু করেন। তারা শিক্ষককে ক্ষমা করে দিয়েছেন বলে জানান ইউএনও।

তিনি আরও জানান, তাদের অনেক বোঝানো সত্ত্বেও তারা লিখিতভাবে আমাদের অনুরোধ করেন আইনিব্যবস্থা না নিতে। রাত ২টা পর্যন্ত অভিভাবকরা আমার কার্যালয়ে অবস্থান করেন যেন আমি আইনিব্যবস্থা না নিই।