কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে কারা হচ্ছেন নৌকার প্রার্থী?

0
78

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে অন্যান্য জেলার মতো মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ঘিরে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলাম ছাড়াও একাধিক প্রার্থী আসন্ন নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার জন্য উঠেপেড়ে লেগেছেন। পাশাপাশি চলছে তথা কথিত ‘গ্রাম্য পলিটিক্স’ ছাড়াও প্রতিহিংসাপরায়ন রাজনীতি। বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলামের কর্মকান্ডে ইর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল তার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটনা করছেন, পাল্টা প্রার্থী হওয়ার হুমকী দিচ্ছেন। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি কুলুষিত হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী হওয়ায় এই ইউনিয়নের গুরুত্ব বেড়েছে বলে এলাকাবাসীদের অভিমত।
সূত্র মতে যুক্তরাজ্যের লন্ডন প্রবাসী যুবায়ের সিদ্দিকী সেলিম নামক ও তার চাচাতো ভাই বদরুল আলম নানু সহ আতœীয়-স্বজনরা বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছেন। এনিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বদরুল আলম নানু ত্রিশ দিন আগে ভাটেরা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার মাধ্যমে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ লাভ করেন। তার এই দলবদল এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
সম্ভাব্য প্রার্থী যারা:
ভাটেরা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলাম ছাড়াও আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন- লন্ডন প্রবাসী যুবায়ের সিদ্দিকী সেলিম ও কামাল চৌধুরী, আমেরিকা প্রবাসী আব্দুল লতিফ খান ও ছয়ফুল আলম সিদ্দিকী (যিনি কলা মোল্লা হিসেবে পরিচিত) প্রমুখ।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে নানা কথা : কে এই যুবায়ের সিদ্দিকী সেলিম?
দীর্ঘ দিন ধরে লন্ডন প্রবাসী যুবায়ের সিদ্দিকী সেলিম-এর পরিবার ২নং ভুকসিমইল ইউনিয়নের শশারকান্দি গ্রামে থেকে ২০/২৫ বছর আগে ভাটেরা ইউনিয়নে আগমন করে। তার পিতা মরহুম আকমল আলী (ভুকসিমইল ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার)। তার বাবা মুসলিম লীগ করতেন। তিনি মুসলিম লীগের সভাপতি সাবেক এমপি এএনএম ইউসুফ-এর সাথে রাজনীতি করতেন। ৯০ দশকে তিনি ও তার পরিবার মুসলিম লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে দলবদল করে ভাটেরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। তার-ই পুত্র যুবায়ের সিদ্দিকী সেলিম। তারা ৪ ভাই এক বোন। দেশের বাড়ীতে একমাত্র বোন থাকেন। বাকী সবাই লন্ডন প্রবাসী।
আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য অপর যে প্রার্থীর নাম শুনা যাচ্ছে তিনি হলেন কামাল চৌধুরী। তিনিও লন্ডন প্রবাসী। সে বছরের পর বছর লন্ডন অবস্থান করছেন। তার বাবা শহীদ চৌধুরী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন।
অপর প্রার্থীর নাম আব্দুল লতিফ খান। তিনি আমেরিকা প্রবাসী এবং সিলেট মহানগর জামায়াতের নেতা। সেও বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সীতে অবস্থান করছেন।
এছাড়াও স্বম্ভাব্য অপর প্রার্থীর নাম ছয়ফুল আলম সিদ্দিকী। তিনিও আমেরিকা প্রবাসী। তিনিও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতর সাথে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (চশমা প্রতিক) ছিলেন। বিগত তিনটি নির্বাচনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। বিগত নির্বাচনে তিনি নৌকার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। অথচ তার দাবী তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় নানা অভিযোগ রয়েছে এবং যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার হয়েছে। সে বছরের পর বছর নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। অভিযোগ রয়েছে তার উদ্যোগে প্রবাসীদের অর্থে প্রতিষ্ঠিত ‘ছয়ফুল-তাহমিনা মাদ্রাসা’ তিনি নিজের বলেই দাবী করছেন। এই মাদ্রাসার চারটি কক্ষ অনুদান দেওয়া চার প্রবাসীর নামে হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তার বাস্তবায়ন ঘটেনি। মাদ্রাসা সহ গ্রামের রাস্তাটি আমেরিকার এক প্রবাসীর দেওয়া জায়গায় গড়ে উঠলেও তা নিজের নামে রাস্তাটি দাবী করা হচ্ছে।
তবে ভাটেরা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলাম গত নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। তিনি মৌলভীবাজার জেলা যুবলীগের সদস্য, কুলাউড়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়াও বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সমিতির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক। আবাসন প্রতিষ্ঠান এসপি টাওয়ারের স্বত্তাধিকারী। তার গ্রামের বাড়ী ভাটেরা ইউনিয়নের মাইজগাও গ্রামে। তিনি আওয়ামী পরিবারের পরীক্ষিত নেতা বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতির মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন। তার সময়ে এলাকার উন্নয়নে প্রতিপক্ষরা ঈর্ষান্বিত হয়ে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। বিগত দিনে অন্যান্য চেয়ারম্যানের সময়ে ভাটেরা ইউনিয়নে ডাকাতি সহ নানা অপরাধ সংগঠিত হতো। কিন্ত তার সময়ে ডাকাতি সহ সকল প্রকার অপরাধ বন্ধ হয়ে গেছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী সাজ্জাদ মুন্না (যিনি যুবায়ের সিদ্দিকী সেলিম ও ছয়ফুল আলম সিদ্দিকীর খালাতো ভাই) নানা ষড়যন্ত্র করছেন। যাতে নৌকা প্রতীক না পান। এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়ে নানা অপ্রচার ও অসম্মানকজনক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছেন। যার বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলাম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সহ মানহানী ও চাঁদাবাজীর অভিযোগ সহ বিভিন্ন অভিযোগে মুন্নার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ে করেছেন। এছাড়াও মুন্না ও ছয়ফুল আলম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে দায়েরকৃত মামলা বিচারাধীন রয়েছে।