কাবিন ছাড়াই মাদ্রাসা ছাত্রীর বিয়ে!

0
99

আক্তার হোসেন আলহাদী:
হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় দশম শ্রেনীর এক মাদ্রাসা ছাত্রীর বিয়ে অনুষ্টিত হয়েছে। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী বিয়ের বয়স না হওয়ার কারনে কাজীর মাধ্যমে বিয়ে না পড়িয়ে স্থানীয় এক মাওলানার মাধ্যমে হয়েছে আকদ বিয়ে।
ঘটনাটি ঘটেছে ৩ নভেম্বর বুধবার দুপুর ২টায় বানিয়াচং উপজেলার ১৫ নম্বর পৈলারকান্দি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম দূর্গাপুর বানিয়াবাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে।

বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বানিয়াবাড়ি পূর্বপাড়ার সর্দার মোঃ সুন্দর আলী।
জানা যায়, উপজেলার পৈলারকান্দি ইউনিয়নের দূর্গাপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেনীর ছাত্রী সামিয়া আক্তার। সে সৌদি প্রবাসী আব্দুর রব মিয়ার কন্যা।

বরের নাম শহীদুল ইসলাম সে একই গ্রামের খলিলুর রহমানের পুত্র। মাদ্রাসার ছাত্রীর বিয়ের খবর পেয়ে মাদ্রাসার সুপার মোঃ হারিছুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট কাজীকে ছাত্রীর অপরিনত বয়সের বিষয়টি অবগত করার কারনে কাজী মোঃ হারুনুর রশীদ বিয়ে পড়াতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবুও দমে যায় নাই বর ও কনে পক্ষের লোকজন। রীতিমত গরু জবাই করে বিয়ের গেট সাজিয়ে ও অন্যান্য অনুষ্টানাদির মাধ্যমে বরপক্ষকে স্বাগত জানান। এবং কাবিন ছাড়াই বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন।

এ ব্যাপারে কাজী মোঃ হারুনুর রশীদ জানিয়েছেন তিনি এরকম কোন বিয়ে বুধবারে রেজিষ্ট্রি করাননি। তিনি ওই দিন হবিগঞ্জ জেলা শহরে ছিলেন।

এ ব্যাপারে গ্রামের সর্দার মোঃ সুন্দর আলী জানান, কনের বাড়িতে অনুষ্টান হতে দেখেছি। কোন মাওলানার মাধ্যমে বিয়ে হয়ে থাকতে পারে বলে শুনেছি। দূর্গাপুর ইসলামিয়া মাদ্রাসার সুপার মোঃ হারিছুল ইসলাম জানান, ওই ছাত্রী আমার মাদ্রাসার দশম শ্রেনীর ছাত্রী। তার বিয়ের বয়স হয় নাই।
এছাড়া বর ছেলেটি পড়ালেখা করলে বর্তমানে সপ্তম শ্রেনীতে পড়ালেখা করতো।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, কনের বিয়ের বয়স না হওয়ার কারনে বিয়ে দিতে নিষেধ করেছি। আক্দ বিয়ে হয়েছি কিনা জানিনা। তবে বিয়ের অনুষ্টানের যাবতীয় প্রস্তুতি ছিল বলে শুনেছি।

এ ব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ বলেন, এলাকটি অত্যধিক প্রত্যন্ত অঞ্চলে। বাল্য বিয়ের বিষয়টি জেনেই সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে খতিয়ে দেখতে বলেছি এবং আইনবহিভর্ভূত হলে বিয়ে বন্ধ করার জন্য বলে দিয়েছি ।