উদ্বোধনের আগেই সড়কে ভাঙ্গণ!

0
74

নিউজ ডেস্ক:
জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-সিলেট সড়কে উদ্বোধনের আগেই ভাঙ্গণ দেখা দেওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে বিরুপ সমালোচনা চলছে। গত ১৯ মে এ রোডের জগন্নাথপুর উপজেলার ১৩ কিলোমিটার অংশের উদ্বোধন করার কথা ছিল পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের। কিন্তু সড়কটি গত ৩/৪ দিন ধরে বিভিন্নস্থানে ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মন্ত্রী এদিন না আসায় সড়কটি উদ্বোধন করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে ইটের খোয়া ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ করে বিগত দিনের মতো এবারও মোটা অংকের টাকা লুটপাট করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এ সড়কের ভবেরবাজার এলাকায় বড় আকারের ভাঙ্গণ শুরু হয়েছে। লকডাউনের কারণে সীমিত আকারে হালকা যানবাহন চললেও নব নির্মিত সড়কটি ভেঙ্গে যাচ্ছে। লকডাউন খোলার পর সড়কটির কি যে হবে তা নিয়ে শঙ্কিত এলাকাবাসী।

জগন্নাথপুর-সিলেট সড়ক টেকসই করার জন্য উপজেলাবাসীর দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। এর ফলশ্রুতিতে স্থানীয় এমপি ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের প্রচেষ্টায় ৫০ কোটি টাকায় অবহেলিত এই ২৫ কিলোমিটার সড়ক পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ২০১৯ সালে কাজ শুরু হলে দীর্ঘ প্রায় ২ বছর পর জগন্নাথপুর অংশের ১৩ কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ হলেও বিশ্বনাথ অংশের কাজ এখনও শেষ হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-সিলেট সড়ক পুনঃনির্মাণের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। জগন্নাথপুর অংশের ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২৫ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করা হলে মাদারীপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হামীম সালেহ (জেভি) অংশ নেয়। এসময় দ্রুত সড়কের কাজ বাস্তবায়ন করতে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত দরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। সে অনুযায়ী ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে সড়কে পুনঃনির্মাণ কাজ পুরোদমে শুরু হয়।

অন্যদিকে বিশ্বনাথ অংশের ১২ কিলোমিটার কাজ পায় ঢাকার শাওন এন্টারপ্রাইজ। দীর্ঘ ২ বছরে অর্ধেক কাজও হয়নি। কাজ হচ্ছে একেবারে ধীরগতিতে।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান বলেন, নিম্মমানের সামগ্রী ও টেকসই কাজ না হওয়াতে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ধ্বসে যাচ্ছে। ঠিকাদাররা দায়সারাভাবে কাজ করে মোটা অংকের টাকা লুটপাট করছে। এ ব্যাপারে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার বলেন, সড়কের মাটি ধ্বসে যাওয়ায় ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত করা হবে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে ভাঙ্গা স্থান মেরামত করার জন্য। তিনি জানান, লকডাউনের কারণে উদ্বোধন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।