ইউক্রেন যুদ্ধ: ভুয়া ছবি ও ভিডিওতে ভরপুর ইন্টারনেট

0
33

নিউজ ডেস্ক:
দ্রুত ছড়িয়ে পড়া কনটেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে পুরনো ছবি বা ভিডিও যেগুলো এই যুদ্ধের বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার এমন কিছু ছবি/ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে যেগুলো এই ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটেরই, কিন্তু আরও আগের।

ষষ্ঠ দিনে পা দিয়েছে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন। আক্রমণ সম্পর্কে ভুল ও বিভ্রান্তিকর ছবি-ভিডিও একে একে ভাইরাল হওয়া শুরু করেছে।

দ্রুত ছড়িয়ে পড়া কনটেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে পুরনো ছবি বা ভিডিও যেগুলো এই যুদ্ধের বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার এমন কিছু ছবি/ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেগুলো এই ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটেরই, কিন্তু আরও আগের।

ভাইরাল হওয়া এরকম কিছু ছবি ও ভিডিও যাচাই করেছে ইংলিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

‘সংকটকালীন অভিনেত্রী’ তত্ত্ব
অনেকেই দাবি করছেন, বৃহস্পতিবার পূর্ব ইউক্রেনের চুহুইভে একটি আবাসিক ভবন ধ্বংসের যে ছবি প্রচারিত হয়েছে অনলাইনে সেগুলো আসলে রাশিয়ান শহর ম্যাগনিটোগর্স্কে ২০১৮ সালে ঘটে যাওয়া এক গ্যাস বিস্ফোরণের ছবি। একজন আহত মহিলার রক্তাক্ত ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেই মহিলাকেও ‘সংকটকালীন অভিনেত্রী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে খবর প্রচার করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বেশ কিছু রাশিয়াপন্থী ও ষড়যন্ত্র-তাত্ত্বিকদের অ্যাকাউন্ট থেকে আসা এই দাবিগুলো আসলে মিথ্যা।

প্রথম দেখায় একরকম মনে হতে পারে, কিন্তু ২০১৮ সালের সেই গ্যাস বিস্ফোরণের ছবিগুলোর সঙ্গে চুহুইভে হওয়া বৃহস্পতিবারের আগুনের ছবিগুলো আসলে এক না।

বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় এক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বলা হয়, “শত্রুর আগুনে এক শিশুর মৃত্যুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন”। ঘটনাস্থলে থাকা দুইজন ফটোগ্রাফার এই মহিলার ছবি তুলেন, যা একদিনের মাঝেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে যায়। দুজন ফটোগ্রাফারই নিশ্চিত করেছেন, ছবিগুলো ২৪ ফেব্রুয়ারি তোলা এবং তাদের ছবির মেটাডেটাও একই তারিখের কথা বলছে।

অস্ত্র হাতে যুদ্ধে নেমেছেন কিয়েভের মেয়র
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকোর একটি ছবি ইন্সটাগ্রামে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে অস্ত্র হাতে রাশিয়ানদের বিপক্ষে যুদ্ধে নেমেছেন তিনি।

এটিও একটি পুরানো ছবি। ২০২১ সালের মার্চে ক্লিটসকো নিজেই তার ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ছবিটি পোস্ট করেছিলেন। তার চেরনিহিভ অঞ্চলের একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনের ছবি এটি।

সৈনিকের মুখোমুখি শিশু
একটি অস্পষ্ট ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, একটি ইউক্রেনীয় শিশু একজন রাশিয়ান সৈন্যকে বলছে, ‘তোমার নিজের দেশে ফিরে যাও’। টিকটকে এক কোটিরও বেশিবার দেখা হয়েছে এই ভিডিও, টুইটারে দেখা হয়েছে প্রায় ১০ লাখবার।

কিন্তু এটি আসলে ২০১২ সালের একটি ভিডিও, যেখানে ফিলিস্তিনি তরুণী আহেদ তামিমি (তৎকালীন বয়স ১১) তার বড় ভাইয়ের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে একজন ইসরায়েলি সৈন্যের মুখোমুখি হয়েছে।

টুইটার ভিডিওটিকে “অপ্রাসঙ্গিক” তকমা দিয়েছে। কিন্তু টিকটকে এখনো দেদারে প্রচারিত হচ্ছে এই ভিডিও।

ভিডিও গেমের ক্লিপ ভাইরাল
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ইউক্রেনীয় পাইলট একটি রাশিয়ান যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামিয়ে দিচ্ছেন। বেলারুশের চ্যানেল নেক্সটা টিভি প্রথম এই ভিডিওটি টুইট করে।

দশ লাখেরও বেশি ভিউ পাওয়া এই ভিডিওটিও ভুয়া। আরমা থ্রি নামক একটি ভিডিও গেমের ক্লিপ এটি।

ইউক্রেনীয় বাহিনীর সঙ্গে চা খেয়েছেন জেলেনস্কি?
একটি ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয় ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেনীয় বাহিনীর মনোবল বাড়ানোর জন্য কয়েকজন অবসন্ন সৈনিকের সঙ্গে বসে চা খেয়েছেন। এই ভিডিও প্রায় ৩০ লাখ বার দেখা হয়েছে।

এই ভিডিওটি ভুয়া না। কিন্তু রাশিয়ার আক্রমণ শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ ধারণ করা হয়েছিল ভিডিওটি। জেলেনস্কি তার সৈন্যদের সমর্থন দেওয়ার জন্য শাইরোকাইনের সামনের সারির সৈনিকদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

টিকটকে প্যারাসুট বিভ্রম
একটি টিকটক ভিডিও প্রায় তিন কোটিবার দেখা হয়েছে। এবং হাজার হাজার ব্যবহারকারী এটি শেয়ার করেছেন এই ভেবে যে ভিডিওটি ইউক্রেনের।

ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায়, সামরিক পোশাক পরিহিত কয়েকজন সেনা কৃষি জমিতে এসে ল্যান্ড করছেন প্যারাসুট নিয়ে। এবং এসময় রাশিয়ান ভাষায় চিৎকার করছেন এবং হাসছেন।

ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “অরিজিনাল সাউন্ড- রোমান”। এতটুকুতেই অনেক টিকটক ব্যবহারকারী ধরে নিয়েছেন ভিডিওটি রাশিয়ান সৈনিকদের ইউক্রেন আক্রমণের সঙ্গে জড়িত।

কিন্তু আসলে এটি রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর একটি সামরিক প্রশিক্ষণের ভিডিও, যেটি ২০১৫ সালে প্রথম ইন্সটাগ্রামে আপলোড করেন বাহিনীর একজন সদস্য। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি টিকটকেও ভিডিওটি আপলোড করেন তিনি। সেদিনই রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করায় টিকটক ব্যবহারকারীরা ধরে নিয়েছেন, এটি সেই আক্রমণেরই অংশ।