‘আমি বিমানবন্দরেন চোরগুলোকে ‍খুঁজতেছি, কিন্তু কিভাবে পাবো তাদের দেখা?’

0
26

নিউজ ডেস্ক:
বিমান বন্দর কর্মকর্তার তৎপরতায় হারিয়ে যাওয়া লাগেজ খুঁজে পেয়েছেন সৌদি প্রবাসী এক নারী। সেই কথা ফেসবুকে তুলে ধরেছেন কর্মকর্তা চৌধুরী আকবার হুসাইন। তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

”এই বোনটির নাম মনি, সৌদি আরব প্রবাসী। ২০ মে ফ্লাই দুবাই এয়ারলাইনে চড়ে দুবাই হয়ে ঢাকায় এসেছেন। বিমানবন্দরে নিজের একটি লাগেজ একটি কার্টন খুজে না পেয়ে চলে গেছেন গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে। বিমানবন্দরে কতজনকে বললেন কেউই তার লাগেজের বিষয়ে কিছু্ বলতে পারছেন না।

তো বোনটির এই সমস্যার কথা তার ফুফাতো ভাই সাগর আহমেদ আমাকে জানালেন টেলিফোনে। মনে মনে বিমানবন্দরের চোরদের গালি দিচ্ছেন, সেটা তার গলার সুরে বোঝা যাচ্ছে। গালি দেওয়াটাই তো স্বাভাবিক। ২টি লাগেজ গায়েব করে দিছে। আমারও খারাপ লাগছে, রক্ত পানি করা শ্রমে জমিয়ে কিছু কিনে দেশে ফিরেছেন, অথচ তিনি শূন্য হাতে বাড়ি ফিরেছেন।

সাগর আহমেদকে বললাম, আপনার বোনের লাগেজ না পেয়ে কোথাও অভিেযাগ কি দিয়েছেন ? তার লাগেজের ট্যাগগুলো দিন।
সাগর বললেন, বিমানবন্দরে অভিযোগ কাকে দিবো, কেউ অভিযোগ নেয় না। ট্যাগ আছে।

সাগর ২টি ট্যাগ পাঠালেন। চিন্তায় পড়ে গেলাম, তার বোন মনি আসলেন ফ্লাই দুবাইয়ে চড়ে, কিন্তু ট্যাগ হচ্ছে সৌদি অ্যরাবিয়ান এয়ারলাইনের। সাগরের কাছ থেকে মনি আপার নাম্বার নিয়ে কথা বললাম। তিনি কিছুই পরিস্কার করে বলতে পারলেন না। তবে তার কাছ থেকে টিকিটের কপি পেলাম।

টিকিটে দেখলাম, তিনি সৌদি আরবের তুরাইফ থেকে সাউদিয়ায় রিয়াদ এসেছেন। তারপর রিয়াদ থেকে ফ্লাই দুবাইয়ে দুবাই হয়ে ঢাকা। তাহলে লাগেজ গেলো কোথায়?

বিস্তারিত জানিয়ে তার ট্যাগ দুটি পাঠালাম সাউদিয়ার চাকরি করেন মিজান ভাইয়ের কাছে। ১দিন পরে জানলাম, সৌদি প্রবাসী মনি তুরাইফ থেকে সাউদিয়ার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে রিয়াদ এসেছেন। তবে সেখানে লাগেজপত্র সংগ্রহ না করেই তিনি ফ্লাই দুবাইয়ের ফ্লাইটে চড়ে ঢাকা চলে আসছেন। যেহেতু ফ্লাই দুবাইয়ে কোন লাগেজ বুকিং দেননি, ফলে ট্যাগও নেই। সাউদিয়ার সেই ফ্লাইটের সাথে ফ্লাই দুবাইয়ের ফ্লাইটের কোন কানেকটিং নেই। সেই দুটি লাগেজ এখন রিয়াদেই আছে। চার্জ দিলে লাগেজ দুটি সাউদিয়া বাংলাদেশে আনবে। এতো ৪/৫ শ রিয়াল খরচ হতে পারে। মিজান ভাইকে অনুরোধ করলাম, মানবিক বিবেচনায় কোন একটা ব্যবস্থা করতে।

অবশেষে ২দিন পরে সৌদি থেকে কোন চার্জ ছাড়াই লাগেজ দুটি এনে দিলেন মিজান ভাই। সৌদি প্রবাসী মনি রাজশাহী থেকে ঢাকায় এসে লাগেজ দুটি নিয়ে গেলেন।

আমি তো চোরগুলোকে ‍খুঁজতেছি যারা বিমানবন্দরে কাজ করে। কিন্তু কিভাবে পাবো তাদের দেখা?”